এএফসি কাপ ফুটবল
সোহেল সারোয়ার
এতটা কঠিন হবে সেটা বুঝতে পারেননি আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস। তার সব কল্পনা ফিকে হয়ে গেছে। মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস রিক্রিয়েশন ক্লাবের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে আবাহনী এএফসি কাপ ফুটবলে নিজেদের পথ কঠিন করে ফেলল।
আবাহনীর ফিরতি ম্যাচ ১২ ফেব্রুয়ারি মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে। সেই ম্যাচ আবাহনী যদি ১-১, ২-২ গোলে ড্রও করে তবে বিদায় ঘটবে তাদের। যদি ৩-৩ গোলে ড্র করে তাহলে আবাহনী বিপক্ষের মাঠে একটি গোল বেশি করার সুবাদে এএফসি কাপের পরবর্তী রাউন্ডে যাবে।
আর যদি আবাহনী ম্যাচ জিতে যায় তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু এটা কি সম্ভব ? ম্যাচ শেষে আবাহনীর কোচ মারিও লেমস বললেন, ‘ঢাকার মাঠে যেভাবে খেলেছে তাতে সম্ভব না। এই পরিস্থিতির যদি পরিবর্তন হয় তাহলে হয়তো সম্ভব।’ মালেতে গিয়ে আবাহনী কি পারবে অন্তত ১-০ গোলের জয়টা তুলে আনতে।
আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ সব সময় কঠিন কথাটা সবার সামনেই বলেন দেন। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আবাহনী মাজিয়া ফুটবল ম্যাচ শেষে বললেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের খেলা দেখে মনে হলো রহমতগঞ্জের বিপক্ষে খেলছে। বল হারানোর পর তারা জেগে উঠছে। গোল খেলে গোল করছে। কেন? আমি তো এভাবে খেলা শেখাইনি। এটা তো রহমতগঞ্জ ম্যাচ না, যে আপনি আমলেই নেবেন না।’ খেলোয়াড়দের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন কোচ।
আবাহনী দুইবার গোল হজম করে গোল শোধ করেছে। ৪২ মিনিটে মাজিয়ার ইব্রাহিম হোসেন ১-০, একেবারে বাজে গোল হজম করেছে আবাহনী। প্রথমার্ধের যোগ হওয়া ইনজুরি টাইমে আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান মেইলসনের গোলে সমতা আসে ১-১। অসাধারণ একটি গোল করেছেন তিনি। হাইতির বেলফোর্টের উড়ন্ত বলটা বক্সে পেয়েই বাম পায়ের শটে গোল ১-১। তাজিকিস্তান জাতীয় দলের গোলকিপার আজিজিকে বোকা বানিয়েছেন। চমকে যায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আসা প্রায় পাঁচশত দর্শক। রক্ষণভাগ থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার জাত চিনিয়েছেন। ৬৫ মিনিটে গ্রানাডার কর্নেলিউস ইজেকেল গোল করলেন আবাহনীর ডিফেন্ডারদের দোষে। বলটা ক্লিয়ার করতে গিয়ে মাজিয়ার পায়ে তুলে দেন রায়হান। সেই বল গোলে পরিণত করেন গ্রানাডার কর্নেলিউস ইজেকেল ২-১। এখান থেকেও ফিরে আসে আবাহনী। ৮০ মিনিটে নাইজেরিয়ান সানডের গোলে সমতা আসে ২-২।
পুরো ম্যাচের বর্ণনা করতে গেলে আবাহনীর পাল্লাটাই ভারী থাকে। আক্রমণ করেছে, কিন্তু গোল পাচ্ছিল না। দুই পাশ থেকে বল ফেললেও মাজিয়ার গোলকিপার এবং ডিফেন্ডাররা লুফে নিয়েছেন। বেলফোর্ট সানডেন জীবনের কাছ থেকে বেশি ফুটবল আশা করেছিলেন কোচ। ক্ষুব্ধ আবাহনীর কোচ তার খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বললেন, ‘এই খেলা খেললে ফুটবল বলা যাবে না। গোল খেলে গোল করার জন্য জেগে উঠে। বল চলে গেলে বলের জন্য দৌড়ায়। আমি আর কত বলব।’
আবাহনীর আগে সংবাদ সাম্মেলনে মাজিয়ার কোচ বলে গেলেন আমরা আমাদের কাজটা সেরে রাখলাম। এখন দেশে গিয়ে বাকিটা করব। যতটা খেলেছি অনেক ভালো। টার্ফের মাঠে খেলে ঘাসের মাঠে খেললাম।’ আবাহনী যেভাবে সুযোগ পেয়েছিল তা যদি কাজে লাগাতে পারত তাহলে ম্যচাট আবাহনীর হাতেই থাকত। মাজিয়ার বিপক্ষে তিনবার খেলেও জিততে পারল না। আবাহনীর ভাগ্য এমনই এর আগে তিনবার গ্রুপ পর্বে খেলে এখন প্রিলিমিনারি খেলতে হচ্ছে।