স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মাদক নির্মূলে চলমান শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে। যতক্ষণ টার্গেটে যেতে না পারি ততক্ষণ অভিযান চলবে। ২০১৫ সালে তেলের নামে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা দুটি ড্রামে ৩৭০ লিটার কোকেন চালান ধরা পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কোকেনের দেশ ও আন্তর্জাতিক চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। যারা পলাতক, তাদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার নগরীর পতেঙ্গায় র্যাব-৭ সদর দপ্তর সংলগ্ন এলিট হলে মাদক ধ্বংস ও মাদকবিরোধী প্রচারণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের সর্বনাশা ছোবল থেকে ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশে মাদক নির্মূলে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাদক, জঙ্গি নির্মূলে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে আমাদের র্যাব ও পুলিশ বাহিনী। দেশে ইয়াবা প্রবেশের প্রধান রুট কক্সবাজার। সেখানেও র্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতায় তা কমে এসেছে। সুন্দরবন একসময় জলদস্যু, বনদস্যুদের অভয়ারণ্য ছিল। কোনো পর্যটক, স্থানীয় জেলে সুন্দরবনে যেতে পারতেন না। কিন্তু র্যাবের প্রচেষ্টায় এখন সুন্দরবন জলদস্যুমুক্ত হয়েছে।
র্যাব মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে ১০০ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার করেছি, ১ হাজার কোটি টাকার অন্যান্য মাদক উদ্ধার করেছি এবং ৪২ হাজার মাদক ব্যবসায়ীকে জেলে পাঠিয়েছি। র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, মো. হাবিবুর রহমান এমপি, মো. ফরিদুল হক খান এমপি, পীর ফজলুর রহমান এমপি, এম আবদুল লতিফ এমপি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে পতেঙ্গা এলাকার ১ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, মাদক ও জঙ্গিবাদবিরোধী বই বিতরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।