সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় মেটাতে গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে ‘স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহের উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান আইন-২০২০’ শীর্ষক একটি বিল পাশ হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিলটি পাশের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়। বিলটি পাশের প্রস্তাব উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান প্রয়োজন। যা বর্তমান সংগৃহীত রাজস্ব দ্বারা মেটানো দুরূহ হওয়ায় সংস্থাসমূহের তহবিলে রক্ষিত উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের গৃহীত উন্নত দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই বিলটি আনা হয়েছে। সরকারের কোষাগারে এ অর্থ জমা না পড়লে শৃঙ্খলা আসবে না বলে তিনি জানান।
তবে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা আনীত বিলটিকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান। এর প্রতিবাদে বিএনপি দলীয় তিন সংসদ সদস্য সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
ঐ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, মো. মুজিবুল হক ও ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং বিএনপির মো. হারুনুর রশীদ ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তারা বিলটি প্রত্যাহার এবং জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। তারা বলেন, এরই মধ্যে ব্যাংকগুলো খালি হয়েছে। পুঁজিবাজারে ধস নেমেছে। আর্থিক খাতে অবাধ লুটপাট চলছে। তাই বিলটি পাশ হলে ব্যাংক খাতের মতো স্বায়ত্তশাসিতসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও দেউলিয়া হয়ে যাবে।
এরপর স্পিকার জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোসহ অন্যান্য বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো ভোটে দেন। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাশ হয়।
বিলের তপশিলে ৬১টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই তপশিল সংশোধনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।