মানিকগঞ্জে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র। প্রশাসনের দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর একই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করছে এ চক্র। জেলার হরিরামপুরের হারুকান্দি ও বয়ড়া ইউনিয়নে পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে ৮ বছর ধরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। এতে ভাঙনের শিকার হচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘ড্রেজার বন্ধে কয়েকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা যায়নি’। তারা বলেন, প্রশাসনের অবহেলা ও যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ‘তাদের ফসলি জমিগুলো এক সময় পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়েছিল। কিন্তু আজ তা ফিরে পেয়েও অবৈধ ড্রেজার মালিকদের জন্য হারাতে বসেছেন। ড্রেজার মালিকরা ১৫/২০ শতাংশ জায়গা কিনেই সারা চর দখল করে বালু উঠাচ্ছে। সবাই গরিব মানুষ। তাদের কথা কেউ শুনে না। বাধা দেওয়ার মতো সাহসও তাদের নেই। ’ সরেজমিন জেলার হরিরামপুরের হারুকান্দি ও বয়ড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এক সারিতে ৭টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ভেঙে পড়ছে। সে সব জমিতে মাশকলাই, মুশুরি, ভুট্টা আবাদ ও কলা বাগান করা হয়েছে। ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের পর তা সরবরাহের পাইপগুলো উপজেলার বিভিন্ন প্রধান সড়ক দিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সব সড়কে অবৈধভাবে স্পিড ব্রেকার দেয়া হয়েছে। এতে ঘটছে দুর্ঘটনা। উপজেলার হারুকান্দি ও বয়ড়া এলাকায় ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন স্থানীয় টিটু, রাকিবসহ আরো কয়েকজন।
ড্রেজার মালিক টিটু জানান, ‘তারা জায়গা কিনে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। মাঝে মাঝে প্রশাসন ড্রেজার বন্ধ করে দিলেও দু-একদিন পর আবার বালু উত্তোলন শুরু করেন। ড্রেজার মালিক রাকিব জানান, ‘তার ড্রেজার চালানোর জন্য বিশেষ ক্ষমতা আছে। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসের অনুমোদন নিয়েছেন। এ ছাড়া হারুকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সহযোগিতা আছে। তিনি আরও জানান, যে কয়টি ড্রেজার আছে সবারই উপজেলা অফিসের অনুমতি আছে।’
এ ব্যাপারে হারুকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খান চুন্নু বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে তার কোনো সহযোগিতা নেই। শুধু একটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে হারুকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হরিরামপুর সদর পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য।’ এ ব্যাপারে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইলিয়াস মেহেদী জানান, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে কোনো ড্রেজার মালিককে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কেউ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে সে ক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’