কপিমানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে । এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পাশাপাশি ওই মৎস্য কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন মৎস্য কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম তার দফতরে কাজ করছিলেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমানের নির্দেশে পিন্টু, আমির হামজা, মো. আজম ও মো. শুভসহ কয়েকজন মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা মৎস্য কর্মকর্তাকে জোর করে উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যান। এ সময় উপজেলা পরিসংখ্যান বিভাগে গণনাকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে গালিগালাজ করেন। এরপর তাকে বদলিসহ হত্যার হুমকি দেন।
মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে টেনেহিঁচড়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর গণনাকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আমি বলি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তত্ত্বাবধানে নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়েছে । এতে আমার কোন হাত নেই। এর পরই উপজেলা চেয়ারম্যান আমাকে গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, আদমশুমারির কাজে লোকবল নিয়োগের বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাকে লাঞ্ছিত বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তবে অভিযোগকারী মৎস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেন তিনি।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস বিরোধী কোর্সে অংশ নিলো বাংলাদেশ
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, উপজেলায় আদমশুমারির কাজের জন্য গণনাকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের বিষয় নিয়ে মৎস্য কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরআই