বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে পাঁচ বিচারপ্রার্থী আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিনতলা ভবনের নিচতলায় (হাকিমী আদালত) কচুয়া এজলাসের সামনের বারান্দায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
আহতরা হলেন— সুমন দাস (৪৫), হৃদয় হাওলাদার (২৬), হাবিবুল্লাহ শেখ (২৮), মো. ফিরোজ শেখ (৬৫) ও মোতালেব হোসেন (৪৮)। তাদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও প্রধান কৌঁসুলি এম এম মাহাবুব মোর্শেদ লালন জানান, জেলা জজ আদালতের নিচতলায়, যেখানে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, সেই কচুয়া কোর্টের সামনের বারান্দার ছাদের পলেস্তারা হঠাৎ খসে পড়ে। এ সময় বারান্দায় অবস্থানরত সাতজন বিচারপ্রার্থীর ওপর পলেস্তারা পড়ে। তাদের মধ্যে পাঁচজন আহত হলে দ্রুত উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
তিনি আরও বলেন,
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তিনতলা ভবনটি অনেক পুরোনো। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ আদনান হোসেন বলেন, আদালত ভবনের পলেস্তারা খসে আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের কারও মাথায়, কারও ঘাড়ে এবং কারও পায়ে আঘাত লেগেছে। তবে কারও আঘাত গুরুতর নয়। সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা দ্রুত ভবনটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

