সিনেটের বিচারে অভিশংসন অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় তাকে ক্ষমতা হারাতে হচ্ছে না। বুধবার রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এক ভোটাভুটিতে দেশটির ৪৫তম প্রেসিডেন্টকে না সরানোর পক্ষে রায় দেন সিনেটররা। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত ডিসেম্বরে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও অ্যান্ড্রু জনসনও প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছিলেন। কিন্তু সিনেটের বিচারে তারা দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় কেউই ক্ষমতা হারাননি। প্রেসিডেন্টকে সিনেটের বিচারে অভিযুক্ত করে অপসারিত করতে ৬৭ সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ১০০ সিনেটরের মধ্যে ৫৩ জনই রিপাবলিকান। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ৪৫ আর দুই জন সিনেটর হলেন স্বতন্ত্র। সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ট্রাম্প যে সহজেই অব্যাহতি পাবেন সেটা আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তার পরও কোনো কারণে ট্রাম্প ভোটে হেরে গেলে তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হতো।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি আর্টিকেল অব ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন অভিযোগ ছিল। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার পদচ্যুতির বিষয়ে ৫২-৪৮ ভোটে জিতেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রেসিডেন্টের পদ হারানোর সম্ভাবনা খারিজ হয়েছে ৫৩-৪৭ ভোটে। ভোটাভুটিতে দলীয় বিভাজন স্পষ্ট। তবে উটাহর সিনেটর মিট রমনি ছিলেন একমাত্র রিপাবলিকান যিনি দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে ডেমোক্রাটদের নিরাশ করেছেন অন্য দুই জন মধ্যপন্থি রিপাবলিকান সিনেটর—মেইনের সুসান কলিনস এবং আলাস্কার লিসা মারকাওস্কি। প্রতিশ্রুতি দিয়েও তারা নিজের পক্ষ ত্যাগ করেননি। কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর সাম্প্র্রতিক সময়ে ট্রাম্পের আচরণের সমালোচনা করলেও, তাদের বক্তব্য হচ্ছে—এই আচরণ ইমপিচ করার পর্যায়ে যায়নি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ইউক্রেনকে চাপ প্রয়োগ, সামরিক সহায়তাকে ঘুষ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগে অভিশংসন প্রক্রিয়ার মুখে পড়েন ট্রাম্প। যদিও তিনি বারবার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। সিনেটের ভোটাভুটির পর তার নির্বাচনি প্রচারণা দল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরোপুরি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন এবং এখন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের নিজ কাজে মন দেওয়ার সময় হয়েছে। অকর্মণ্য ডেমোক্র্যাটরা জানে তারা ট্রাম্পকে হারাতে পারবে না, সেজন্য তারা তাকে ইমপিচ করেছিল।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, অভিশংসন প্রক্রিয়া ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণার একটি কৌশলমাত্র। একে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ‘ধাপ্পাবাজি’র একটি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪৯ শতাংশে উঠেছে, যা এ যাবতকালে তার জনপ্রিয়তার হারে সর্বোচ্চ। সিনেটে অব্যাহতির বিষয়ে বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের বিবৃতি দেওয়ার কথা ছিল। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ট্রাম্প হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী যিনি অভিশংসিত হয়েছেন।
এদিকে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্যরা বলেছেন, এর ফলে ট্রাম্প আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য সব সময় একটি ‘হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং রিপাবলিকান সিনেটররা আইন না থাকার ব্যাপারটিকে সাধারণ ব্যাপার বানিয়ে ফেলেছেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এ যাত্রা রেহাই পেলেও তার ত্রুটিসমূহ সবাই জানেন।