ঝিনাইদহে ১২৬ ইটভাটার মধ্যে লাইসেন্স আছে মাত্র ১৮টির

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটভাটা। জেলা প্রশাসকের অফিসের তথ্য অনুযায়ী জেলায় ইটভাটা আছে ১২৬টি। তার মধ্যে লাইসেন্স মাত্র ১৮টির। বাকি ভাটাগুলো সরকারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে চলছে না।

ইট পোড়াতে কাঠ পোড়ানো একেবারেই নিষিদ্ধ। এর মধ্যে ৫৩টি ইটভাটায় কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। বাকি ৭৩টিতে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ভাটায় কাঠের সঙ্গে কিছু কয়লা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে জেলার ১৯টি ভাটায় পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ব্যারেল চিমনি ব্যবহার হচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মাসুদ আহমেদ সঞ্জু জানান, অনেক ভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপন করেছে। কৃষি জমির টপ সয়েল কিনে এনে ইট তৈরি করছে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। আর লোকালয়ে ভাটা করায় কালো ধোঁয়ায় আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

শৈলকুপার এক ইটভাটা মালিক খলিরুর রহমান জানান, ১ লাখ ইট পোড়াতে ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার মণ কাঠ লাগে। ঝিনাইদহ জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম ফোটন বলেন, আইন মেনে ভাটার লাইসেন্স পাওয়া কঠিন। আর কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো ভাটার সংখ্যা কমে গেছে।

জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, জেলার অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৯ ভাটা বন্ধ এবং ২৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ব্যারেল চিমনির ভাটাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। লোকবল ও ভাটা ভাঙা বুলডোজারের অভাব রয়েছে। আবার যেসব স্থানে ভাটা স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে গাড়িও যায় না।