স্পোর্টস রিপোর্টার
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে ২৩৩ রানে। ৮২.৫ ওভার ব্যাট করেছে বাংলাদেশ দল।
দিন শেষে মুমিনুল হকরা চাইলে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতেই পারেন! সাদা পোশাকে দলের শেষ চার ইনিংসের দিকে তাকালে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম ইনিংসটা উন্নতির চিহ্নই বহন করছে। এই ফরম্যাটে শেষ আট ইনিংসে এত বেশি ওভার ব্যাটিং করতে পারেনি বাংলাদেশ। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে সর্বশেষ টেস্টে দুই ইনিংসেই ২০০ পার হয়নি বাংলাদেশের স্কোর। দুই ইনিংস মিলিয়ে ব্যাট করেছিল ৭১.৪ ওভার।
সে তুলনায় রাওয়ালপিন্ডিতে পেস সহায়ক কন্ডিশনে পাকিস্তানের পেস আক্রমণের সামনে কিছুটা লড়াই করতে সক্ষম হয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। পাকিস্তানের পেসারত্রয়ী ৫৪.৫ ওভার বোলিং করেছেন, উইকেট নিয়েছেন ৭টি।
টসজয়ী পাকিস্তানের পেসাররা দিনভর গতি, সুইংয়ের মিশেলে বোলিং করেছেন। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের অনেকে অবশ্য উইকেট বিলিয়ে আসার পুরোনো রোগ ধরে রেখেছেন। সম্ভাবনাময় কয়েকটি ইনিংস থেমে গেছে মাঝপথে। ইনিংস বড়ো করতে না পারার দোষে দুষ্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস। পেসারদের দাপটের দিনে পাকিস্তানের পার্টটাইম বাঁ-হাতি স্পিনার হারিস সোহেল বড়ো দান মেরেছেন। দুইবার গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে তিনি ফেরান লিটন দাস ও তাইজুল ইসলামকে।
ব্যাটিং দৈন্যের এই দিনে বাংলাদেশের হয়ে লড়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। মুশফিকুর রহিম না থাকায় মিডল অর্ডার সামলানোর বড়ো দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। ২২ গজে লড়াই করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। দলীয় ২৩৩ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। তারপর আর কোনো রান যোগ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪০ বল খেলে ৬৩ রান করেন মিঠুন।
দিনের শুরুতে ৩ রানে ফিরে যান ২ ওপেনার। অভিষিক্ত সাইফ হাসান (০) ইনিংসের তৃতীয় বলেই ফিরেছেন। আফ্রিদির ফুলার লেন্থ বলে ব্যাট চালিয়েছেন, কিন্তু ছিল না বিন্দুমাত্র ফুটওয়ার্ক। বিসিএলে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে যাওয়া তামিম আব্বাসের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন।
মুমিনুল-শান্তর জুটি ভাঙে ৬২ রানে। আফ্রিদির বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৩০ রান করেন তিনি। শুরু থেকেই বেশ সাবলীল ছিলেন শান্ত। লাঞ্চের পর এসেই আব্বাসের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে উইকেটকিপারের কাছে ক্যাচ দেন ৪৪ রান করা শান্ত। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহও একই ভুল করেছেন। আফ্রিদির অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল তাড়া করে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ২৫ রান করেন মাহমুদউল্লাহ।
ষষ্ঠ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন মিঠুন-লিটন। তাদের ৫৪ রানের জুটি ভাঙে লিটন হারিস সোহেল উইকেট দিলে। বাঁহাতি স্পিনারকে সুইপ করতে গিয়ে লিটন এলবির ফাঁদে পড়েন। তিনি ৩৩ রান করেন। সপ্তম উইকেটে মিঠুন-তাইজুলের জুটিও জমে গিয়েছিল। তারা ৫৩ রান যোগ করেন। এ যাত্রায়ও আঘাত হানেন হারিস সোহেল।
তাকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন ২৪ রান করা তাইজুল। লোয়ার অর্ডারকে নিয়ে ইনিংস লম্বা করার চেষ্টা করেছিলেন ১৩৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা মিঠুন। নাসিম শাহর বলটা তার শরীর ও ব্যাটের ফাঁক গলে চলে যায় উইকেটকিপারের হাতে। পরে রাহী রানআউট হলে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। আফ্রিদি ৪টি, আব্বাস-হারিস সোহেল ২টি, নাসিম শাহ ১টি উইকেট পান।
স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ-পাকিস্তান
বাংলাদেশ—১ম ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
তামিম এলবিডব্লু আব্বাস ৩ ৫ ০ ০
সাইফ ক শফিক ব শাহিন ০ ২ ০ ০
শান্ত ক রিজওয়ান ব আব্বাস ৪৪ ১১০ ৬ ০
মুমিনুল ক রিজওয়ান ব শাহিন ৩০ ৫৯ ৫ ০
মাহমুদউল্লাহ ক শফিক ব শাহিন ২৫ ৪৮ ৪ ০
মিঠুন ক রিজওয়ান ব নাসিম ৬৩ ১৪০ ৭ ১
লিটন এলবিডব্লু সোহেল ৩৩ ৪৬ ৭ ০
রুবেল ব শাহিন ১ ৯ ০ ০
রাহি রান আউট ০ ৫ ০ ০
এবাদত অপরাজিত ০ ৪ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-৬, ও-১, নো-৩) ১০
মোট: ৮২.৫ ওভারে ২৩৩/১০
উইকেট পতন:১-৩, ২-৩, ৩-৬২, ৪-৯৫, ৫-১০৭, ৬-১৬১, ৭-২১৪, ৮-২২৯, ৯-২৩৩, ১০-২৩৩
বোলিং:শাহিন আফ্রিদি ২১.৫-৩-৫৩-৪, আব্বাস ১৭-৯-১৯-২, নাসিম ১৬-০-৬১-১, ইয়াসির ২২-২-৮৩-০, হারিস ৬-২-১১-২