স্বাভাবিক থাকতে চান মাহমুদুল হাসান জয়

যুব বিশ্বকাপ

ফাইনাল আগামীকাল

স্পোর্টস রিপোর্টার

যুব ওয়ানডের ক্যারিয়ার জুড়ে তাকে ‘দ্বিতীয় সেরা’ হয়ে থাকতে হয়েছে। এই যুবদলের সেরা খেতাবটা তৌহিদ হূদয়ই উপভোগ করে এসেছেন। কিন্তু সবচেয়ে প্রয়োজনের সময়টায় সেরা হয়ে উঠলেন সেই মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম অ-ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি করলেন। আর জয়ের এই দুরন্ত সেঞ্চুরিতে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে চলে গেল বাংলাদেশ যুব দল।

স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ যুব দলের জন্য, জয়দের জন্য এই সময়টা একটু নার্ভাস হয়ে থাকার একটা সময়। সিনিয়র-জুনিয়র; বাংলাদেশের কোনো দলেরই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কারো কাছ থেকে যে শুনে নার্ভাসনেস কমাবেন, সে উপায়ও নেই। কারণ পথ তৈরি করেই হাঁটতে হচ্ছে যুব দলকে।

এবার সেই পথের সামনে ভারত। ফাইনালে এই বাধাটা টপকাতে পারলে বাংলাদেশে একটা প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে ফিরতে পারবেন জয়টা। তবে এত বড়ো বড়ো কথা মাথায় ঢুকাতে চাচ্ছেন না মাহমুদুল হাসান জয়। তিনি বলছিলেন, ফাইনালেও স্বাভাবিক থাকতে চান তারা। চাপ নিতে চান না, ‘আমরা ফাইনালেও নরমাল গেম খেলব। ফাইনাল বলে এক্সট্রা চাপ নেওয়ার কিছু নেই। ইনশাল্লাহ ভালো কিছুই হবে।’

চাপমুক্ত থাকলেও রোমাঞ্চমুক্ত নন জয়। বলছিলেন, এই সেঞ্চুরিটা তার জন্য আসলেই বিশেষ কিছু, ‘এই ইনিংস আমার জন্য স্পেশাল। বাংলাদেশ বেশির ভাগ সময় সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়ে গেছে। কিন্তু এই ইনিংসে ভর করে প্রথমবার ফাইনালে। সুতরাং এই ইনিংস আমার জন্য খুবই স্পেশাল।’

জয় নিজের ব্যাটিং কৌশলের কথা বলতে গিয়ে বলছিলেন, প্রান্ত বদল করে খেলা ছাড়া আর কিছু ভাবছিলেন না। তিনি ও হূদয় দশ রান করে করে এগোনোর কথা ভাবছিলেন জুটির সময়টায়, ‘আমি স্ট্রাইক রোটেট করার চেষ্টা করেছি। এটাই মূল কথা। স্টেপ বাই স্টেপ আগানোর চেষ্টা করছিলাম। ১০ রান ১০ রান করে আগানোর চেষ্টা করছিলাম।’

হূদয়ের সঙ্গে জুটির সময় কী ভাবছিলেন, সেটাও বললেন জয়, ‘আমার তৌহিদের জুটির সময় মনে হয়েছে আমরা যদি আরো একটু বড়ো জুটি গড়তে পারি, তাহলে পরের ব্যাটসম্যানের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যাবে।’

জয় বলছিলেন, মাঠে তারা ভালো সমর্থন পেয়েছেন। আর এই সমর্থনটাকে খুব গুরুত্বপূর্ণ বলছিলেন তিনি, ‘সাপোর্টাররা সবাই খুশি। আমাদের কোচিং স্টাফ এবং দলের সবাইও খুব খুশি। উদ্যাপন বলতে এইটুকুই। হ্যাঁ, সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাপোর্টাররা আমার নাম বলে উল্লাস করে, এ রকম দেখাটা দারুণ।’

এই সেঞ্চুরিটা আরেকটা কারণে জয়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গতবছর একবার ১ রানের জন্য মিস করেছিলেন সেঞ্চুরি, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজে ৯৯ রানে আউট হয়েছিলাম। এবার তাই কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু বাউন্ডারিতে সেঞ্চুরি পূরণ করার চাপটা নেমে যায়।’ তবে এত কিছুর পরও জয়ের একটা আফসোস থেকে গেল। তিনি খেলাটা শেষ করে আসতে চেয়েছিলেন, ‘টিম চাচ্ছিল আমি যাতে নটআউট থাকি। সুতরাং শেষ করতে না পেরে আমি মোটেই খুশি ছিলাম না। শেষ করে আসতে পারলে ভালো হতে পারতো। আমি খুব বাজে শট খেলে আউট হয়েছি। নটআউট থাকতে পারলে ভালো হতো। চেষ্টা করেছিলাম ওভার দ্য টপ খেলে রান নেওয়ার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা হয়নি।’