লাবুশেনে নিজেকে খুঁজে পান শচিন

স্পোর্টস ডেস্ক

ব্যাট হাতে দারুণ একটা সময় কাটাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ান তরুণ মার্নাস লাবুশেন। আর এরই সুবাদে তিনি এবার পেলেন স্বয়ং শচিন টেন্ডুলকারের ভূয়সী প্রশংসা। ভারতীয় এই ক্রিকেট আইকন জানালেন, ২৫ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যানের মধ্যে তিনি নিজের ছায়া খুঁজে পান।

মাত্র ১৪ টেস্টের ক্যারিয়ারেই ১৪৫৯ রান করে ফেলেছেন ডান হাতি ব্যাটসম্যান লাবুশেন। এরমধ্যে আছে চারটি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফ সেঞ্চুরি। সেরা ইনিংসটা ২১৫ রানের। আর এর প্রভাব পড়েছে টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাংকিংয়েও। ১০৭ ধাপ এগিয়ে তিনি এখন টেস্ট ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিন নম্বরে। তার আগে আছেন কেবল বিরাট কোহলি আর স্বদেশি স্টিভেন স্মিথ।

ফলে, লাবুশেনের প্রশংসায় কোনো কমতি রাখেননি ভারতীয় ক্রিকেটের সেরা ব্যাটসম্যান শচিন। ৫১টি সেঞ্চুরিসহ টেস্টে ১৫ হাজার ৯২১ রান করা শচিন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বসে বলেন, ‘ওর ফুটওয়ার্ক এক কথায় অবিশ্বাস্য। এই সময়ে ওকে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান বললেও ভুল বলা হবে না।’

শচিন জানালেন, অ্যাশেজের মঞ্চে স্টিভেন স্মিথ মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তার বদলি হিসেবে মাঠে নামার পর মিনিট ১৫-এর মধ্যেই লাবুশেন লিটল মাস্টারের নজর কাড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম, মাঠে নামার পর জোফরা আর্চারের দ্বিতীয় বলটাই ওর হেলমেটে আঘাত করল। কিন্তু, এর পরের ১৫ মিনিট ও যেভাবে ব্যাট করল, তাতে আমি তখনই বলতে বাধ্য হয়েছিলাম যে, সত্যি ওর মধ্যে বিশেষ কিছু আছে, কিছু একটা আছে যা ওকে বাকিদের চেয়ে আলাদা করেছে।’

লাবুশেনের ইতিবাচক মানসিকতার প্রশংসা করে শচিন বলেন, ‘ওর ফুটওয়ার্ক খুব নিখুঁত। তবে, সেটাতে শারীরিক কোনো ব্যাপার নেই, এর পুরোটাই মানসিক। আপনি যখন মানসিকভাবে ইতিবাচক চিন্তা করতে পারবেন, তখন আপনার মনই আপনার পাকে সঠিক জায়গা রাখবে। এই ব্যাপারটাই প্রমাণ করে যে, এই ছেলেটা মানসিকভাবে কতটা শক্ত।’

অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যান একবার বলেছিলেন যে, তিনি নিজের ছায়া খুঁজে পান শচিন টেন্ডুলকারের মাঝে। ১৯৯২ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সিডনিতে সেঞ্চুরি করেই ব্র্যাডম্যানের সুনজর পেয়েছিলেন শচিন। সেই শচিনের চোখে এই সময়ের সেরা কে? শচিন অবশ্য কোনো তুলনায় গেলেন না। বললেন, বিরাট কোহলি আর স্টিভেন স্মিথের কথা।

শচিনের ভাষায়, ‘আমার অবশ্যই এখানে ভারতীয় কাউকেই বেছে নেওয়া উচিত। তবে, আমার এক পাশে স্টিভেন স্মিথ আছে। আরেক পাশে আছেন আমার বন্ধু বিরাট। তাদেরকে ব্যাটিং করতে দেখার মতো বিনোদন আর কিছু হতে পারে না।’