সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের আজ দুই বছর পূর্ণ হলো। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজা হলে নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়। পরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ বাতিল চেয়ে করা আপিলে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে উচ্চ আদালত। বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা চলছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে গত ১ এপ্রিল বিএসএমএমইউয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিত্সা গ্রহণ করছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে। সারাক্ষণ তীব্র ব্যথা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না, হাত-পা নাড়াতে পারছেন না।
দলের নেতারা জানান, বেগম জিয়াকে যেদিন কারাগারে পাঠানো হয় সেদিন বড়ো কোনো প্রতিবাদ হয়নি। তারপর থেকেও কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রেও নেতাদের মধ্যে সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে প্রথম দিন থেকেই বিএনপি তাদের নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মুক্তির দাবিতে বিগত দুই বছরে মানববন্ধন, অনশন, বিক্ষোভ, সভা-সেমিনার ছাড়া রাজপথে বড়ো কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দলটি। কোনো কোনো কর্মসূচি সরকারের অনুমতি না পেয়ে পালনই করেনি। আদালতেও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেনি দলের আইনজীবী প্যানেল। শেষমেশ আপিল করে জামিনে বেরিয়ে আসবেন এমন আশায় বুক বাঁধেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু ১২ ডিসেম্বর জামিন আবেদন খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। বেগম জিয়ার জামিনের জন্য নতুন করে রিভিউ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আইনজীবীরা। তবে ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়ার বন্দি থাকার ঘটনা নতুন নয়। ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ৮৪ সালের ৩ মে ও ৮৬ সালের ১১ নভেম্বর তিন দফায় বন্দি হন বেগম জিয়া। তখন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের নিজ বাসায় গৃহবন্দি করে রাখা হয়। কারাগারের কুঠুরিতে এবারই প্রথম যান এই নেত্রী। তবে কারাগারে যাওয়ার আগে যেসব আইনজীবী নেতা অভয় দিয়েছিলেন সেই নেতারা এখন হতাশ। তাই আন্দোলন ছাড়া মুক্তির আর বিকল্প কোনো পথ নেই বলে মনে করেন নেতারা।
আজ নয়াপল্টনে সমাবেশ
এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ শনিবার ঢাকায় সমাবেশ করবে বিএনপি। রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর সমাবেশের অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয় বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার বিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, ডিসি রমনা থেকে ফোনের মাধ্যমে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ডিসি মতিঝিল ও থানা-পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয় দলটিকে। এ বিষয়ে ডিএমপির মতিঝিল জোনের উপকমিশনার জামিল হাসান জানান, বিএনপির অনুমতির আবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে সেখান থেকে এখনো তাদের কিছু জানানো হয়নি।