একাদশে সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের অভাব দিনকে দিন আরো প্রকট হয়ে উঠছে। গতকাল রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে আরো একবার দারুণভাবে ব্যর্থ হলো সাকিব-মুশফিকহীন বাংলাদেশের ব্যাটিং। তামিম ইকবালও ব্যর্থ হলেন নিজেকে মেলে ধরতে। আর সবকিছুর ফল হিসেবে সারা দিনে ৮২.৫ ওভারে ব্যাট করে ২৩৩ রানে অলআউট হলো বাংলাদেশ। তিন তরুণ ফাস্ট বোলার—শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আব্বাস ও নাসিম শাহকে নিয়ে নেমেছিল পাকিস্তান। আর এদের ওপর ভরসা করেই টসে জিতে আগে বোলিং করার সাহসি সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিকরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের মধ্যেই সে সিদ্ধান্ত দারুণ সফল।
ইনিংসের তৃতীয় বলে শাহিন আফ্রিদির বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে আসেন অভিষিক্ত সাইফ হাসান। ২১ বছর বয়সি ডান হাতি এই ব্যাটসম্যানের আগে টেস্ট অভিষেকে শূন্য রান করেছে ৬১৭ জন ব্যাটসম্যান। এর মধ্যে বাংলাদেশে আছেন ২২ জন। ৬১৭ জনের মধ্যে ৪৪ জন আবার দুই ইনিংসেই রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন।
সাইফ ফেরার পরের ওভারে তামিম ইকবালও এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন আব্বাসের বলে। বিসিএলে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে যাওয়া তামিম করেন ৩ রান। এরপর শান্ত ও মুমিনুল প্রথম একটা প্রতিরোধ করেন।
মিডল অর্ডারে সবাই সেট হয়েছেন এবং উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। শান্ত ৪৪ ও মুমিনুল ৩০ রান করে ফেরেন। এরপর মোহাম্মদ মিঠুন বেশ কয়েকটা জুটি গড়েন। রিয়াদ তাকে ২৫ রান করে একটু সঙ্গ দেন। লিটন ৩৩ রান করেন। আর মিঠুন শেষ পর্যন্ত দলের পক্ষে একমাত্র ফিফটি করে আউট হন। ১৪০ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো তার এই ইনিংস।
এরপর শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের সাথে একটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন তাইজুল। তিনি ২৪ রান করেন ৭২ বল খেলে। এরপর অপ্রয়োজনীয় এক শট খেলে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে ফিরে যান।
পাকিস্তানের হয়ে শাহিন আফ্রিদি ৪টি উইকেট নেন। এ ছাড়া আব্বাস ও হারিস সোহেল ২টি করে উইকেট নেন। আজ সকালে পাকিস্তান ব্যাট করতে নামবে।