এসএসসি ও সমমানের বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অন্তত ১৫টি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষা বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে, এসব শিক্ষার্থীর খাতা আলাদা ও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এ কারণে কারো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা শুধু এবার নয়। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায়ও অর্ধশতাধিক কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। এ কারণে কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
তথ্য অনুযায়ী, একটি কেন্দ্রে নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থী থাকে। নিয়মিতদের ২০২০ সালের প্রশ্ন আর অনিয়মিতদের ২০১৮ সালের প্রশ্ন পাওয়ার কথা। প্রতি কক্ষের দুজন কক্ষ পরিদর্শকেরও দায়িত্ব তাদের কক্ষে কতজন কোন ধরনের পরীক্ষার্থী আছে সে অনুযায়ী প্রশ্ন বুঝে নেওয়া। আর সবশেষ দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের। তারা কোন সিলেবাসের পরীক্ষার্থী আর কোন সিলেবাসের প্রশ্ন পেয়েছে, তা বুঝে নেওয়া। এখন এই তিনটি ধাপ কাজ না করলেই ভুল হয়। তবে একটি কেন্দ্রে যিনি কেন্দ্রসচিব থাকেন, ভুল প্রশ্ন বিতরণে প্রধান দায় তার। নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বসানোর কথা থাকলেও তা করেননি কেন্দ্রসচিবেরা।
বোর্ডের প্রশ্নের প্যাকেট থাকে ২০, ৫০ অথবা ১০০টির। ফলে একজন শিক্ষার্থী থাকলেও একটি প্যাকেটই পাঠাতে হয়। এতে কেন্দ্রসচিবদের অসতর্কতায় একাধিক শিক্ষার্থীর কাছে ভুল প্রশ্ন চলে যায়। এ ক্ষেত্রে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের বক্তব্য হলো, যেসব কেন্দ্রে ভুল হয়েছে, তাদের খাতাগুলো আলাদা করে রাখা হয়েছে। যে শিক্ষার্থী যে প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে, সে অনুযায়ীই আলাদা মূল্যায়ন করা হবে। এখন যদি দেখা যায়, পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নে নতুন সিলেবাসের একটি বিষয় ছিলই না, অথচ শিক্ষার্থীকে সেটা লিখতে হয়েছে, তাহলে তাকে ঐ প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দিয়ে দেওয়া হবে। আর যেসব শিক্ষক ভুল করেছেন, তাদের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে একাধিকে কেন্দ্রে ছিল ভুল প্রশ্নপত্রের ছড়াছড়ি। প্রথমে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা শুরু করা হলেও বেশ কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীদের ২০২০ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। তবে কিছু কেন্দ্রে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হলেও কোথাও কোথাও সময়ও বাড়ানো হয়নি। আবার কোথাও পুরোনো প্রশ্নেই পরীক্ষা শেষ করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। আবার কোনো কেন্দ্রে সেট বদল করেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, এবার ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ হয়েছে ১৫টি কক্ষে। এ সংখ্যা খুবই নগণ্য। তবে ১৫টিতেই বা হবে কেন? অন্যদিকে গাইড বই থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হয়েছে বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন। গাইড বইয়ের সঙ্গে প্রশ্নপত্র হুবহু মিলে যাওয়ার ঘটনায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড তদন্ত শুরু করেছে। চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, কোন বোর্ডের কে কীভাবে প্রশ্ন করেছেন, তা তদন্ত হচ্ছে। বিভিন্ন গাইড বই নিয়েও তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত কমিটি রবি-সোমবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পারবে।