মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক
পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, পিরোজপুর
জনাব নুরুল ইসলাম একজন সত্ কাস্টমস অফিসার । তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন । কোনো রকম অনিয়মের আশ্রয় তিনি গ্রহণ করেন না। এ কারণে ডিপার্টমেন্টের সবাই তাকে খুব সম্মান করে। একজন সত্ কর্মকর্তা হিসেবে কাস্টমস বিভাগে তার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে । জনাব নুরুল ইসলামের এই সততা ও নিষ্ঠার পেছনে আখিরাতের বিশ্বাস তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে, ‘আখিরাতে বিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে কল্যাণ আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে মারাত্মক বিপর্যয়।’
ক.নৈতিকতা কী?
খ. আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা জরুরি কেন?
গ.উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব নুরুল ইসলাম কেন দায়িত্বশীল হয়েছেন? বুঝিয়ে লেখ।
ঘ. উদ্দীপকের সর্বশেষ উক্তিটির যথার্থতা কুরআন ও হাদিসের আলোকে মূল্যায়ণ করো।
উত্তর:
ক.নৈতিকতা বলতে বোঝায় নীতি সম্বন্ধীয় ও নীতিমূলক। কাজে কর্েম, কথাবার্তায় নীতি ও আদর্শের অনুসরণই হলো নৈতিকতা।
খ. আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে মানুষ ইমানদার হতে পারে না। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে সাহায্য করে। মানুষকে সর্ত্কমশীল করে তোলে। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে অন্যায়, অত্যাচার অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে। আখিরাতে বিশ্বাসী ব্যক্তির প্রতিটি কাজে সে আল্লাহকে স্মরণ করে। পরকালীন জীবনের সফলতা ও জান্নাত লাভ করার জন্য সে পূণ্য কাজ করতে উত্সাহিত হয়।
গ. উদ্দীপকে জনাব নুরুল ইসলামের দায়িত্বশীলতার পেছনে আখিরাতে বিশ্বাস তাকে উত্সাহিত করেছে। একজন মানুষকে পরিপূর্ণ ইমানদার হতে হলে তাকে অবশ্যই আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আখিরাতে বিশ্বাস না করলে মানুষ ইমানদার হতে পারে না। এ সম্পর্কে সুরা আল বাকারার ৪ নং আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘ আর তাঁরা (মুত্তাকিগণ) আখিরাতের প্রতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।’ তাওহিদ ও রিসালাতের ন্যায় আখিরাতে বিশ্বাস করা ইমানের অঙ্গ। আখিরাতে বিশ্বাস জনাব নুরুল ইসলামকে সত্কর্মশীল ও দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠাবান করেছে।
কারণ তিনি একজন ইমানদার হিসেবে বিশ্বাস করেন পৃথিবীর যাবতীয় কাজকর্ম সম্পর্কে পরকালে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ভালো কাজের জন্য আল্লাহ তায়ালা তাকে পরকালে পুরস্কৃত করবেন আর মন্দ কাজের জন্য তাকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে। উপরিউক্ত বিশ্বাস জনাব নুরুল ইসলামকে সত্ থাকতে সহায়তা করেছে।
ঘ. যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে এবং সে বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে তাঁরা পরকালে লাভ করবে পরম সুখ শান্তির স্থান জান্নাত। সেখানে শুধু শান্তি আর শান্তি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অসংখ্য নাজ নেয়ামত। যেখানে রোগ-শোক, জরা-মৃত্যু কোনোকিছুই জান্নাতীদের স্পর্শ করতে পারবে না। জান্নাতে থাকবে স্বর্ণখচিত আসন, রেশমের আস্তরবিশিষ্ট ফরাস, স্বচ্ছ পানির স্রোত ধারা, সুস্বাদ দুধের প্রবাহ, বিশুদ্ধ মধুর নহর প্রভৃতিসহ আরো সর্বপ্রকার আনন্দ উপভোগের নানা আয়োজন। আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের মনোরঞ্জনের জন্য রকমারি ব্যবস্থা।
আর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। আল্লাহ তাআলা সুরা নাহলের ২২ নং আয়াতে তাদের সম্পর্কে বলেন,‘আর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা অহংকারী।’ যারা আখিরাতে অবিশ্বাসী তারা জাহান্নাম লাভ করবে। জাহান্নাম বড় কষ্টদায়ক স্থান। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সুরা আল আ’লার ১৩ নং আয়াতে বলেন, ‘এরপর জাহান্নামিরা (জাহান্নামে) মরবেও না এবং জীবিতও থাকবে না।’ জাহান্নামের প্রজ্বলিত আগুন শরীরের মাংস হাড় থেকে আলাদা করে দেবে। আবার পুনরায় সৃষ্টি হবে নতুন মাংস ও চামড়া। যুগ যুগ ধরে অন্তহীনভাবে এ শাস্তি চলতে থাকবে। ভয়ংকর বিভীষিকাময় এই জাহান্নামে অসংখ্য বিষধর সাপ ও বিচ্ছু থাকবে। এই বিষধর সাপ ও বিচ্ছুগুলো জাহান্নামীদের দংশন করবে।