স্পোর্টস রিপোর্টার
টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে বোলিং গড়ের বোলারদের একজন রুবেল হোসেন। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের আগে ২৬ ম্যাচে তার বোলিং গড় ছিল ৮০.৩৩। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে রুবেল হয়তো নিজেই নিজের কোনো ভবিষ্যত্ দেখতে পান না! কিন্তু হুট করেই তার বোলিংয়ে ‘বিরাট’ কিছু আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশের নির্বাচকরা। পাকিস্তান যাওয়ার আগে মিরপুর স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে আড্ডায় এক নির্বাচক রুবেল ভালো ছন্দে আছেন বলেও দাবি করলেন।
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের দ্বিতীয় দিনে এই ডানহাতি পেসারের বোলিং দেখে নিশ্চয়ই নিজের চোখকে আরেকবার প্রশ্ন করতে বাধ্য হবেন ওই নির্বাচক। আল-আমিনকে বসিয়ে একাদশে রাখা রুবেল গোটা দিনে ১৭ ওভার বোলিং করে ৪.৫২ ইকোনমিতে ৭৭ রান দিয়েছেন। দিনভর তার ওয়ানডে স্টাইলের বোলিং পড়তে এবং শাসন করতে বেগ পেতে হয়নি পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের।
ক্লান্তিকর, এলোমেলো বোলিং করেছেন এবাদত হোসেনও। টেস্টের জন্য তৈরি করা হচ্ছে এই পেসারকে। শুরুতে গতির ঝলক দেখালেও কিন্তু গোটা দিন যেন লাইন-লেন্থ খুঁজে ফিরেছেন ১৪.৫ ওভারে ৭৮ রান দেওয়া এই পেসার। দুই নির্ভরযোগ্য পেসার রুবেল-এবাদতের নখদন্তহীন, নির্বিষ বোলিংটাই গতকাল বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের স্মারক হয়ে রইল। এদিন কিছুর আশার সলতে জ্বালিয়েছেন আবু জায়েদ রাহী ও তাইজুল ইসলাম। তারা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও অপরপ্রান্তে ধারহীন বোলিংকে মাড়িয়ে প্রথম ইনিংসে বড়ো সংগ্রহের পথে হাঁটছে পাকিস্তান। ওভার প্রতি ৩.৮৯ হারে রান তুলেছে পাকিস্তান। শান মাসুদ, বাবর আজমের জোড়া সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৪২ রান। ১০৯ রানে এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা। ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি করা বাবর আজম ১৪৩, আসাদ শফিক ৬০ রানে অপরাজিত আছেন।
শুধু কী বাজে বোলিং, ক্যাচ মিসের বড়ো ভুল এমনকি ক্যাচ ধরেও তা বুঝতে না পারার আক্ষেপ গতকাল বাংলাদেশ দলের সঙ্গী ছিল। তাইজুলের বলে ব্যক্তিগত ১ রানে বাবর আজমের তোলা সহজ ক্যাচ ফেলেন মিড অফে দাঁড়ানো এবাদত। ৮৬ রানে রুবেলের বলে উইকেটের পেছনে দেন শান মাসুদ। ক্যাচ ধরেও লিটন বুঝতে পারেননি! আউটের আবেদনও করেননি। পরে রিপ্লে দেখে আফসোস করেছেন লিটন। সেই শান মাসুদ ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করে ১০০ রানে তাইজুলের বলে বোল্ড হন। যদিও আবিদ আলী (০), আজহার আলীকে (৩৪) ফিরিয়ে ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন রাহী। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি সতীর্থ বোলাররা।
স্কোর কার্ড
(প্রথম দিন- বাংলাদেশ ২৩৩/১০, ৮২.৫ ওভার, মোহাম্মদ মিঠুন ৬৩, নাজমুল হোসেন শান্ত ৪৪, শাহিন শাহ আফ্রিদি ৪/৫৩)।
পাকিস্তান ব্যাটিং :
শান মাসুদ বোল্ড ব তাইজুল ১০০
আবিদ আলি ক লিটন ব আবু জায়েদ ০
আজহার আলি ক শান্ত ব আবু জায়েদ ৩৪
বাবর আজম অপরাজিত ১৪৩
আসাদ শফিক অপরাজিত ৬০
অতিরিক্ত (বা-১, লে বা-৩, নো-১) ৫
মোট (৩ উইকেট, ৮৭.৫ ওভার) ৩৪২
উইকেট পতন : ১/২ (আবিদ), ২/৯৩ (আজহার), ৩/২০৫ (মাসুদ)।
বাংলাদেশ বোলিং :
এবাদত হোসেন : ১৪.৫-২-৭৮-০, আবু জায়েদ : ২০-২-৬৬-২, রুবেল হোসেন : ১৭-৩-৭৭-০ (নো-১), তাইজুল ইসলাম : ৩৪-৫-১১১-১, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ : ২-০-৬-০।