ইত্তেফাক রিপোর্ট
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের ওপর হামলার ঘটনায় আরো চার জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তারা হলেন—জহিরুল ইসলাম ওরফে অপু, রাসেল হাওলাদার, মো. মাসুদ ও মো. আলাউদ্দিন। এদের মধ্যে অপু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ হোসেন খোকনের সত্ ভগ্নিপতি। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, হামলার সময়ের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী ওই চার জনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সরাসরি হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী শনাক্ত করা আরো কয়েকজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার এলাকায় একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর সশস্ত্র বাহিনীর মহড়ার ছবি তোলায় সাংবাদিক সুমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকার বুদ্ধিজীবী সড়কের একটি বাসা থেকে ইসমাইল নামে এক জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবি
সিটি নির্বাচন চলাকালে রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকার কার্যনির্বাহী সদস্য মাহবুব মমতাজী ও সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য উজ্জ্বল হোসেন জিসানসহ অন্য সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে। রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা এর আয়োজন করে। বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, দিনাজপুর সাংবাদিক সমিতি ঢাকাসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। তারা সন্ত্রাসী রিয়াদসহ জড়িত অন্য সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
আরডিজেএ সভাপতি মোকছুদার রহমান মাকসুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ডিইউজে (একাংশ) সাধারন সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ডিইউজে (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বিএফইউজে সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অমিয় ঘটক পুলক প্রমুখ।