গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত বিএনপির এক বিরাট সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আমরা মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সরকারকে বাধ্য করব। আমরা আন্দোলনে নেমেছি, আমাদের আন্দোলন চলবে, এর মধ্য দিয়ে এই দানব সরকারকে বাধ্য করব। তিনি অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, এই সরকারকে বলবো পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন দিন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের দুই বছর পূর্তিতে দলের পক্ষ থেকে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
দুপুর ১২টার পর থেকেই নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে আসতে শুরু করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বিভিন্ন ইউনিটে ভাগ হয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন তারা। ধানের শিষের রেপ্লিকা, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, খালেদা জিয়ার পোস্টারসহ নানা প্রতিবাদী স্লোগানসম্বলিত ব্যানার-পোস্টার হাতে নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন তারা। সমাবেশের কারণে নয়াপল্টনের সামনের সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
দুপুর দুটায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চ থেকে দলের নেতারা বক্তব্য দেন। শুরু হওয়ার আগেই সমাবেশস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবীব উন নবী খান সোহেল, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আযম খান, মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শামা ওবায়েদ, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, তাবিথ আউয়াল প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার বিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী।
দেশ পরিচালনায় সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এই রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে। কারণ তারা দুর্নীতিবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত। নিজেদের দুর্নীতির কারণে ঢাকার নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্নীতির কারণে ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি দুজনকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। জনগণ এখন আর আওয়ামী লীগকে চায় না। মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা বলি, বিএনপি নেত্রী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জামিন পাচ্ছেন না। কিন্তু তারপরেও আমাদেরকে তার জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে।
১৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বিএনপির বিক্ষোভ
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ঘোষণা করেছে বিএনপি। সমাবেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঘোষণা দেন।