৩০ সোনার বার জব্দ

বিজিবির যশোর অফিসে দুই আসামির চোখ ও হাত বাঁধা ছবি প্রকাশে তোলপাড়

যশোরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪৯ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ৩০টি সোনার বারসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছেন। ঐ দুই আসামিকে ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে হাত ও চোখ বেঁধে বসিয়ে রাখার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানাধীন বড়োআঁচড়া ভাঙ্গার মোড় এলাকা থেকে ইকবাল হোসেন (৩৪) ও ওমর ফারুক (৩৪) নামে দুজনকে আটক করা হয়।

দুপুরে ৪৯ বিজিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করা হয়। সেখানে স্বর্ণ উদ্ধার ও গ্রেফতারের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। এসময় সোনার বারসহ আটক দুজনের চোখ কালো কাপড় দিয়ে এবং দুই হাত পেছন থেকে বেঁধে বিজিবির যশোর কার্যালয়ে রাখার চিত্রটি সাংবাদিকরা দেখতে পান। সেই ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে সন্ধ্যায় মোবাইলে ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সেলিম রেজা ইত্তেফাককে বলেন, এ ধরনের কোনো ছবি আমরা গণমাধ্যমে সরবরাহ করিনি। ছবি সাংবাদিকরা তুলেছেন, ছবি তো মিথ্যা বলছে না, এটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসামিদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এটা করা হয়েছে। আসামির চোখ বেঁধে রাখা নিরাপত্তার পর্যায়ে পড়ে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এভাবেই নিরাপত্তা দেওয়া হয়। তবে নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

দুপুরে বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল সকাল ৯টার দিকে বেনাপোল বিওপির নায়েক মো. নূরুল ইসলামের নেতৃত্বে চোরাচালানবিরোধী একটি টিম অভিযান চালিয়ে ৩০টি সোনার বারসহ ইকবাল হোসেন ও ওমর ফারুককে আটক করেন। উদ্ধার করা বারগুলোর ওজন তিন কেজি ৪৯৮ গ্রাম যার মূল্য আনুমানিক দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা। আটক ইকবালের বাবার নাম মৃত আব্দুর রাজ্জাক ও ওমরের বাবার নাম আজিজুর রহমান। তাদের উভয়ের বাড়ি যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানাধীন বড়োআঁচড়া গ্রামে।