বোরো চাষ নিয়ে শঙ্কিত কৃষক
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় দেড় মাস যাবত্ চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদে অবস্থিত ভাসমান তেল ডিপো যমুনা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের বার্জ দুটি তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকায় তেলের সংকট সৃষ্টি হওয়ায় চলতি মৌসুমে বোরো চাষ নিয়ে কৃষকরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
চিলমারী ভাসমান তেল ডিপো দুটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তেল বাজার জোড়গাছ বাজারের খুচরা তেল ব্যবসায়ী নুর ই আলম বাদল, রাশেদুল ইসলাম, মমিনুল, ধীরেন্দ্র নাথসহ অনেকে বলেন, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে তেল নিতে অতিরিক্ত খরচ না থাকায় প্রতি লিটার তেল ৬৫ টাকায় বিক্রি করেছিলাম। বর্তমানে দূর থেকে তেল আনতে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় বেশি দামে তেল বিক্রি করছি। ক্রেতা আফসার আলী ও সুলতান জানান, ডিপোতে তেল না থাকায় প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় তেল কিনতে আমাদের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে আসছে ঐ ভাসমান তেল ডিপো দুটি। ঐ জেলাগুলোর চরাঞ্চলের কৃষকদের বিদ্যুত্ সুবিধা না থাকায় তারা শুধুমাত্র জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। তাই মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানি দুটি তেলশূন্য থাকায় সুবিধাভোগীরা তেল সংকটে ভুগছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিশান দাস বলেন, এবার বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি, যার অধিকাংশই ডিজেল ইঞ্জিন চালিত শ্যালো মেশিনের উপর নির্ভরশীল। স্থানীয় ভাসমান তেল ডিপো দুটি তেল শূন্য থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা সৃষ্টি হবে।
যমুনা ওয়েল কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাফাজ্জল হোসেন বলেন, তেল সরবরাহের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে তেল আসবে। মেঘনা কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী বলেন, গত ৮ জানুয়ারি ডিপোর তেল শেষ হয়েছে। তেলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, অল্পদিনের মধ্যে তেল আসবে বলে আশা করছি।