রূপকল্প ২০৪১ :উচ্চ আয়ের অর্থনীতি অভিমুখে আমাদের যাত্রা

বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীর দ্বারপ্রান্তে। এ এক অনন্য অনুকূল সময়, যখন শুধু অতীতের সাফল্য ও অর্জনের বিষয় ভাবনায় নেওয়া নয়, বরং পরবর্তী ২০ বছর যে সমস্যা ও সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে তার সমাধান ও সদ্ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণেরও সময়। একবিংশ শতাব্দীর একটি অবিসংবাদী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, সেটি হলো পরিবর্তন। পরিবর্তনের গতি এখানে দ্রুত ও রূপান্তরধর্মী। বাণিজ্য ও শিল্পে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যপরিচর্যায়, পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থায় এবং আমরা যেভাবে কাজ করি ও ব্যবসা চালাই এর সর্বত্র যে ব্যাপক রূপান্তর ঘটবে, পরবর্তী অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজকে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে হবে। এছাড়া এত দ্রুততার সঙ্গে এই পরিবর্তন ঘটবে যে, সমাজ যদি রূপান্তরের এই অত্যাসন্ন প্লাবন মোকাবিলার প্রস্তুতি না নেয়, তাহলে হয়তো আমরা আবার নতুন বিশ্বব্যবস্থায় আবদ্ধ জলাশয়ে নিক্ষিপ্ত হব। তাই একমাত্র সঠিক পন্থা হলো সামনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে জাতিকে এগিয়ে নেবার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নেওয়া এবং বলিষ্ঠতার সঙ্গে সম্ভাব্য সুবিধাবলির সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা, যেন বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম উচ্চ আয় ও উন্নত জাতির সঙ্গে বিশ্বসভায় তাদের ন্যায্য আসন পেতে পারে। এগুলো সবই হতে হবে মধ্যশতাব্দী পেরোনোর আগেই, জলবায়ুসহিষ্ণু ও প্রতিবেশবান্ধব একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে। ২০২১-২০৪১ মেয়াদে আসন্ন পরবর্তী দুই দশকের জন্য পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নের এটাই হলো অন্তর্নিহিত ও চূড়ান্ত লক্ষ্য।

দুটি প্রধান স্বপ্ন প্রাধান্য পেয়েছে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ (প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১)-এ :

২০৪১-এর মধ্যে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত দেশ, যেখানে আজকের মূল্যে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ ইউএস ডলারেরও বেশি এবং যা হবে ডিজিটাল বিশ্বের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। সোনার বাংলায় দারিদ্র্য হবে সুদূর অতীতের ঘটনা।

এতে অবাক হবার কিছু নেই যে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞবৃন্দ বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নের বরপুত্র হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরে। ১৯৭০-এর দশকে উন্নয়নের হতাশাপূর্ণ নিরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে যে  দেশটিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল তার এই অপ্রতিরোধ্য উত্থান নিঃসন্দেহে তাত্পর্যপূর্ণ। এমডিজি অর্জনে, বিশেষ করে দারিদ্র্য নিরসন, খাদ্যনিরাপত্তা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় জেন্ডার সমতা, শিশু ও মাতৃত্বজনিত মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এর অসামান্য অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী অভিনন্দিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন বিস্ময়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সক্রিয় ও  ইতিবাচক উদ্যোগের মাধ্যমে মানব উন্নয়নের ফলে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন আরো গতিশীল ও দ্রুতগামী হয়ে উঠতে পারে। অর্থনীতি তাই এখন উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যাভিমুখী। সংগতভাবেই সামনে নানা জটিল সমস্যা পথ রোধ করে দাঁড়াবে। তাই বলিষ্ঠ কৌশল ও অবিচলিত নীতি অঙ্গীকার হবে আমাদের পাথেয়।

বিশ্ব বণিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ এখন একটি গতিশীল প্রথম প্রজন্মের শিল্পোদ্যোক্তা জাতি, যা বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে পারে। তৈরি পোশাকশিল্পের (আরএমজি) রপ্তানি পরিকৃতির সাফল্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আবার রপ্তানিকারকরা নতুন পণ্যসম্ভার নিয়ে নিত্য নতুন বাজারে ঢুকে পড়ছেন, যার মধ্যে রয়েছে সমুদ্রগামী জাহাজ, নিত্য ব্যবহার্য ইলেকট্রনিকস পণ্য, পাদুকা ও ঘরে ব্যবহার্য নানা ধরনের যন্ত্রপাতি। এই অগ্রগতির ধারায় দেশ এখন ২০৩১-এর মধ্যে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশে এবং ২০৪১-এর মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে সামনে এগিয়ে চলেছে। সমাজ ও অর্থনীতিতে ভবিষ্যত্ রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ তার জনমিতিক লভ্যাংশকে অপ্রতিরোধ্য মানবপুঁজিতে পরিণত করে এর বিশাল জনসম্পদের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই এই অর্জন সম্ভব করতে পারে। বাংলাদেশকে তার বদ্বীপযুক্ত ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপে পরিবেশগত অবক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিনিয়ত যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে এগোতে হয়, এ বিষয়ে সবাই অবগত। সুতরাং সমগ্র উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত ও বাস্তুতন্ত্র ভারসাম্য বজায় রাখার অনুকূলে শক্তিশালী নীতি-নির্দেশনা অনুসৃত হবে। এরই ধারায় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ এর লক্ষ্য একটি সবুজ প্রবৃদ্ধি কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা, যা প্রবৃদ্ধিবান্ধব আর্থিক প্রজ্ঞামণ্ডিত একটি সুষ্ঠু সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে প্রযুক্তিগত রূপান্তর, দারিদ্র্য নিরসন ও পরিবেশগত সুরক্ষার পরিপূর্ণভাবে সামঞ্জস্য বিধান করবে।

পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণ—যা মূলত রূপান্তর—এটি সম্পন্ন করা সম্ভব এমন একটি দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যা দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি উত্পাদন-সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনমূলক জ্ঞান অর্থনীতি বিনির্মাণ ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি গড়ে উঠবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি শক্তিশালী কর্মসূচির ওপর, যাকে বেগবান করতে জ্ঞান অর্থনীতির ডিজিটাল প্রযুক্তি দ্বারা পরিপুষ্ট রপ্তানিমুখী ম্যানুফ্যাকচারিং প্রবৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে যা ভূমি, পানি, বন, প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য ও বায়ুর মতো মৌলিক প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার এমনভাবে করবে, যা সেগুলোর বিনাশ ও অবক্ষয় পরিহার নিশ্চিত করবে।

সন্দেহ নেই, দেশকে নানাবিধ জটিল সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। রূপান্তর সংঘটিত হবে এমন একটি বিশ্বায়িত অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে যেখানে আমূল ও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে, সৃষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন সুযোগ, সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘর্ষ ও জলবায়ু পরিবর্তনের দিক থেকে মারাত্মক ঝুঁকিও মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। এখন একটি অত্যন্ত দ্রুতগামী প্রযুক্তিগত বিপ্লব বা ডিজিটাল যুগ চলমান, যা পরিণতিতে আমাদের বেঁচে থাকা, জীবনধারণ ও কাজের ধরনসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ধরনে পরিবর্তন আনবে। এই ইতিবাচক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু উন্নত অর্থনীতিতে ঊনবিংশ ও বিংশ শতকের পুরোনো জাতীয়তাবাদী ধারার পুনরুত্থান ঘটছে এবং সেই সঙ্গে বাড়ছে বৈশ্বিক সংঘর্ষের ঝুঁকি, যা বিশ্বের ব্যবসায়-বাণিজ্য ও আর্থিক ব্যবস্থার জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরবর্তী ২৫ বছর বাংলাদেশে যে আর্থসামাজিক রূপান্তর ঘটতে যাচ্ছে তা বিগত ২৫ বছরে লব্ধ অভিজ্ঞতা থেকে একেবারে ভিন্নতর ও মৌলিক। ইতিবাচক বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সম্ভাবনা আহরণ ও সদ্ব্যবহারসহ বৈরী উপাদান নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে উচ্চতর হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে, যা অতীতে সম্ভব ছিল না। একটি শক্তিশালী ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি-সংগঠনের উপাদান হলো দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ওপরের দিকে ওঠে আসার আকাঙ্ক্ষা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে, টেকসই উপায়ে অংশগ্রাহী সমৃদ্ধির সঙ্গে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণের জন্য প্রয়োজন হবে আরো অর্থবহ উদ্ভাবনমূলক কৌশল, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সমতা ওজন অংশগ্রহণ। অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে ও দারিদ্র্যমুক্ত করে এর বিকাশসহ শোভন কর্মসংস্থান  বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা অবারিত করার উপযোগী সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

এই লক্ষ্যে দ্রুত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি বাড়াতে কর্মসূচি ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে উপযুক্তরূপে গড়ে তোলা দরকার। প্রত্যাশা অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি উচ্চ আয়ের দেশগুলোর কাতারে যুক্ত হবে, যখন দারিদ্র্য হবে অতীতের কাহিনি, সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিচর্যায় থাকবে সবার প্রবেশাধিকার, থাকবে না বেকারত্ব ও ছদ্ম-বেকারত্ব, জনসংখ্যার শতভাগ হবে সাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন এবং এদের সবাই হবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের (বিশেষ করে, শিক্ষা, শিল্প ও সেবা) সব ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞানের অধিকারী এবং এগুলোর সবকিছু অর্জিত হবে পরিবেশের কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন না করে, যা ভূমি, পানি ও বনসম্পদ সংরক্ষণসহ পরিচ্ছন্ন বায়ু, নিরাপদ পানি, সবুজ মাঠ ও জীববৈচিত্র্যে জনগণের অধিকার অবাধ করবে।

১.২ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১-এর কৌশলগত লক্ষ্য ও মাইলফলক

দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নীতির অপরিহার্য উপাদান হিসেবে নিম্নবর্ণিত কৌশলগত লক্ষ্যসমূহ অনুসরণ  করা হবে :

২০৩১-এর মধ্যে চরম দারিদ্র্য নিরসন; ২০৪১ এর মধ্যে মাঝারি দারিদ্র্য ৫ শতাংশেরও নিচে নামিয়ে আনা; ২০৩১-এর মধ্যে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১-এর মধ্যে উচ্চ-আয় দেশের মর্যাদা অর্জন; রপ্তানিমুখী ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের সঙ্গে শিল্পায়ন কাঠামোগত রূপান্তরকে ভবিষ্যতের দিকে চালিত করবে; কৃষিতে মৌলিক রূপান্তরের ফলে উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতের জন্য পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করবে; ভবিষ্যতের সেবা খাত গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিকে প্রাথমিকভাবে শিল্প ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য সেতুবন্ধ রচনা করবে; একটি উচ্চ আয়ের অর্থনীতির দিকে অগ্রযাত্রা কৌশলের অপরিহার্য অংশ হবে নগরের বিস্তার; একটি অনুকূল পরিবেশের অপরিহার্য উপাদান হবে দক্ষ জ্বালানি ও অবকাঠামো, যা দ্রুত, দক্ষ ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে; জলবায়ু পরিবর্তনসহ আনুষঙ্গিক পরিবেশগত সমস্যা মোকাবিলায় একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণ; একটি দক্ষতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বাংলাদেশকে জ্ঞানভান্ডার দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।

উল্লিখিত লক্ষ্য ও মাইলফলক অর্জনের জন্য গৃহীত কর্মপদ্ধতি। নির্ধারিত দুই দশকের দীর্ঘ মেয়াদে চারটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়িত হবে, যা জাতিকে তার বর্তমান অবস্থা (নিম্ন-মধ্য আয়) থেকে ২০৪১ নাগাদ উচ্চ আয় দেশের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে। এই সময় বাংলাদেশকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে হবে, তা হচ্ছে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা হতে বেরিয়ে আসতে হবে। তবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হয়ে আসা সব সমস্যার সমাধান নয়। উদ্বেগের বিষয় এই যে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে পরিচালিত গতানুগতিক প্রক্রিয়া ২০২৪-এর মধ্যে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকার বাইরে নিয়ে আসতে পারলেও এ ধরনের গতানুগতিক প্রক্রিয়া আরো বড়ো ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনে তেমন সহায়ক নাও হতে পারে। এলডিসির বাইরে আসার এবং ‘নিম্ন-মধ্য আয়’ দেশের বর্তমান অবস্থা থেকে ‘উচ্চ-মধ্য আয়’ দেশের অবস্থায় উত্তরণ ঘটানোর বিষয়টি এক নয়, সুতরাং আরেকটি চ্যালেঞ্জ হবে ‘মধ্য-আয়ের ফাঁদ’ এড়িয়ে চলা। এগুলোর সবকিছু ছাপিয়ে বাংলাদেশের জন্য যে কাজটি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হবে তা হলো ২০৩০ মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিও বেশ সমস্যাকীর্ণ হয়ে আসছে। এগুলো থেকে এই ধারণাই পাওয়া যায় যে, বাংলাদেশকে আগামী দিনগুলোতে এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু অসামান্য উদ্যোগ ও তত্পরতা যুক্ত করতেই হবে।

n লেখক :একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ

ও সদস্য, পরিকল্পনা কমিশন