মা বাবা মেয়ে মিলে মাদক ব্যবসা

মেয়ে মোছা. আশা খাতুন ওরফে মায়া খাতুন, বাবা আমিরুল ইসলাম ওরফে আলাউদ্দিন, মা মিনি খাতুন, বড়ো বোন আলোমতি। তারা সবাই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা পৌরসভার স্টেশনপাড়ায়। শুরুটা ছিল ২০০৯ সাল। শুরুটা করেছিল আশা খাতুনের স্বামী ওল্টু মণ্ডল। এরপর বাকিরা ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে এ ব্যবসায়। তাদেরকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ দিয়ে তারা নিজ নামে ও কাছের আত্মীয়স্বজনের নামে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। তাদের নামে-বেনামে রয়েছে জমি ও বিলাসবহুল বাড়ি। আর মাদক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে গড়ে তোলেন ক্যাডার বাহিনী। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি করতে সাহস পায়নি। শনিবার রাতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডির) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মোছা. মিনি খাতুন, আমিরুল ইসলাম ওরফে আলাউদ্দিন ও মোছা. আলোমতি। তবে আশা খাতুন ওরফে মায়া খাতুনকে গ্রেফতার করা যায়নি। এ তথ্য জানিয়েছেন অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডির) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানায় মিনি খাতুনের নামে ১১টি মামলা, আমিরুল ইসলাম ওরফে আলাউদ্দিনের নামে পাঁচটি ও আশা খাতুন ওরফে মায়া খাতুনের নামে পাঁচটি ও আলোমতির নামে সাতটি মাদক মামলা রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃতরা পারিবারিকভাবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযানের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দুই বছর আগে বন্ধুকযুদ্ধে ওল্টু মণ্ডল নিহত হয়। পরবর্তীতে কিছুদিন তাদের মাদক ব্যবসা বন্ধ ছিল। পাশাপাশি গ্রেফতার এড়াতে আসামিরা কিছুদিন আত্মগোপনে ছিল। সম্প্রতি তারা আবার মাদক ব্যবসা আগের মতোই চালিয়ে যাচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডির) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড তদন্ত শুরু করে। তাদের অবৈধ সম্পদের ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই শনিবার সিআইডি উপপুলিশ পরিদর্শক অনুপ কুমার দাশ বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানায় মানি লন্ডারিং মামলা করেন।

সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, মাদক বিক্রির টাকায় তারা প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।