স্পোর্টস রিপোর্টার
আগের দুইটি টেস্টই দুই দিন, আড়াই দিনে হেরেছিল বাংলাদেশ দল। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের আয়ু চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। মুমিনুল হকরা চাইলে সেই তৃপ্তিটা উপভোগ করতে পারতেন। কিন্তু তৃতীয় দিনের বিকালে হঠাত্ ঝড়ে এলোমেলো হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। তরুণ নাসিম শাহর হ্যাটট্রিকে ধসে পড়ে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। ৩ রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। শেষ বিকালে এমন উইকেট-বৃষ্টিতে উলটো ইনিংস হারের শঙ্কা নিয়েই রাতটা কাটাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
যদিও তৃতীয় দিনের শুরুটা খারাপ যায়নি বাংলাদেশের। গতকাল ১০৩ রান যোগ করতেই পাকিস্তানের শেষ ৭ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন বোলাররা। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসটা থামে ৪৪৫ রানে। ২১২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ ৫৩ রানে ২ উইকেট হারায়। তারপর অধিনায়ক মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর বিচক্ষণ ব্যাটিংয়েই দিনটা পার হওয়ার সম্ভাবনা জেগেছিল। ৪১তম ওভারে নাসিম শাহর হ্যাটট্রিক বদলে দেয় দৃশ্যপট। ২ উইকেটে ১২৪ রান থেকে তৃতীয় দিন শেষ করে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ১২৬ রান নিয়ে। ইনিংস হার এড়াতে এখনো ৮৬ রান দরকার বাংলাদেশের। মুমিনুল ৩৭ ও লিটন দাস শূন্য রানে ব্যাট করছেন।
ইনিংসের নবম ওভারে সাইফ হাসানকে (১৬) বোল্ড করেন নাসিম শাহ। দলীয় ৫৩ রানে ইয়াসির শাহর বলে এলবির ফাঁদে পড়েন তামিম। তিনি ৩৪ রান করেন। তৃতীয় উইকেটে মুমিনুল-শান্ত ৭১ রানের জুটি গড়েন। তাদের জুটি ভাঙেন নাসিম। ওভারের চতুর্থ বলে শান্তকে ফেরান রিভিউ নিয়ে। শান্ত ৩৮ রান করেন। পরের বলে নাইটওয়াচম্যান তাইজুল এলবির ফাঁদে পড়েন। হ্যাটট্রিক ঠেকানোর কাজটা করতে পারেননি অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ। হারিস সোহেলকে ক্যাচ দিয়ে তিনি বছরের প্রথম ও টেস্ট ইতিহাসের ৪৪তম হ্যাটট্রিকের গৌরব পাইয়ে দেন নাসিম শাহকে। পাকিস্তানের হয়ে হ্যাটট্রিক করা চতুর্থ বোলার এই ডানহাতি পেসার।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার এক ওভার আগে মিঠুন (০) বোল্ড হন ইয়াসির শাহর বলে। তাতেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় ডুবতে বসে বাংলাদেশের লড়াইয়ের চেষ্টা। নাসিম শাহ ২৬ রানে ৪টি, ইয়াসির শাহ ২টি উইকেট নেন।
এর আগে দিনের প্রথম বলে বাবর আজমকে ফেরান আবু জায়েদ রাহী। তিনি ১৪৩ রান করেন। দ্বিতীয় দিনের তুলনায় শৃঙ্খলিত বোলিং করা এবাদতের শিকার হন আসাদ শফিক। তিনি ৬৫ রান করেন। তারপর লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে পাকিস্তানের স্কোরটা ৪০০ পার করেন হারিস সোহেল। লাঞ্চের আগে রুবেল ফেরত পাঠান রিজওয়ান (১০) ও ইয়াসির শাহকে (৫)। লাঞ্চের পর শাহীন শাহ আফ্রিদিকে (৩) তৃতীয় শিকার বানান রুবেল। হাফ সেঞ্চুরিয়ান হারিস সোহেলকে থামান তাইজুল। হারিস সোহেল ৭৫ রান করেন। পরে সাইফ হাসান সরাসরি থ্রয়ে নাসিম শাহকে (২) রান আউট করলে শেষ হয় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস।
বাংলাদেশের রাহী-রুবেল ৩টি করে, তাইজুল ২টি ও এবাদত ১টি উইকেট নেন।
স্কোর কার্ড (তৃতীয় দিন শেষে)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৮২.৫ ওভারে ২৩৩/১০
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস
(আগের দিন ৩৪২/৩, ৮৭.৫ ওভার)
রান বল চার ছয়
বাবর আজম ক মিঠুন ব আবু জায়েদ ১৪৩ ১৯৩ ১৮ ১
আসাদ শফিক ক লিটন ব এবাদত ৬৫ ১২৯ ৯ ০
হারিস সোহেল ক তামিম ব তাইজুল ৭৫ ১০৩ ৭ ২
মোহাম্মদ রিজওয়ান ক মাহমুদউল্লাহ ব রুবেল ১০ ২৩ ১ ০
ইয়াসির শাহ এলবিডব্লিউ ব রুবেল ৫ ২১ ১ ০
শাহীন শাহ আফ্রিদি এলবিডব্লিউ ব রুবেল ৩ ১২ ০ ০
মোহাম্মদ আব্বাস অপরাজিত ১ ২৬ ০ ০
নাসিম শাহ রান আউট (সাইফ হাসান) ২ ৭ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-১, লে বা-৩, নো-২, ও-১) ৭
মোট (অলআউট, ১২২.৫ ওভার) ৪৪৫
উইকেট পতন:
১/২ (আবিদ), ২/৯৩ (আজহার), ৩/২০৫ (মাসুদ), ৪/৩৪২ (বাবর), ৫/৩৫৩ (আসাদ), ৬/৩৭৪ (রিজওয়ান), ৭/৪১৫ (ইয়াসির), ৮/৪২২ (আফ্রিদি), ৯/৪৪২ (হারিস), ১০/৪৪৫ (নাসিম)।
বাংলাদেশ বোলিং :
এবাদত হোসেন : ২৫-৬-৯৭-১, আবু জায়েদ : ২৯-৪-৮৬-৩ (নো-১), রুবেল হোসেন : ২৫.৫-৩-১১৩-৩ (ও-১, নো-১), তাইজুল ইসলাম : ৪১-৬-১৩৯-২, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ : ২-০-৬-০।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস রান বল চার ছয়
তামিম ইকবাল এলবিডব্লিউ ব ইয়াসির শাহ ৩৪ ৫৬ ৬ ০
সাইফ হাসান ব নাসিম শাহ ১৬ ২৫ ৪ ০
নাজমুল হোসেন শান্ত এলবিডব্লিউ নাসিম শাহ ৩৮ ৮৭ ৩ ১
মুমিনুল হক অপরাজিত ৩৭ ৮৭ ৪ ০
তাইজুল ইসলাম এলবিডব্লিউ নাসিম শাহ ০ ১ ০ ০
মাহমুদউল্লাহ কট হারিস সোহেল ব নাসিম শাহ ০ ১ ০ ০
মোহাম্মদ মিঠুন ব ইয়াসির শাহ ০ ১২ ০ ০
লিটন দাস অপরাজিত ০ ১ ০ ০
অতিরিক্ত (ও-১) ১
মোট (৬ উইকেট, ৪৫ ওভার) ১২৬
উইকেট পতন :
১/৩৯ (সাইফ), ২/৫৩ (তামিম), ৩/১২৪ (শান্ত), ৪/১২৪ (তাইজুল), ৫/১২৪ (মাহমুদউল্লাহ), ৬/১২৬ (মিঠুন)।
পাকিস্তান বোলিং :
শাহীন শাহ আফ্রিদি : ১১-২-৩৫-০ (ও-১), মোহাম্মদ আব্বাস : ১১.৪-৫-২০-০ , নাসিম শাহ : ৮.২-২-২৬-৪, ইয়াসির শাহ : ১১-২-৩৩-২, আসাদ শফিক : ৩-০-১২-০।