থাইল্যান্ডে হামলাকারী সেনাসদস্য পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। রাজধানী ব্যাংককের উত্তর-পূর্বে নাখন রাতচাসিমা শহরের বৌদ্ধ মন্দির ও শপিং সেন্টারে তার এলোপাতাড়ি গুলিতে ২৯ জন নিহত হয়েছেন। ঐ হামলায় প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের
এর আগে জাকরাফান্থ থোম্মা নামে সামরিক বাহিনীর ঐ জুনিয়র অফিসার প্রথমে তার কমান্ডিং অফিসারের ওপর হামলা চালিয়ে সামরিক ক্যাম্প থেকে বন্দুক ও বিস্ফোরক চুরি করে। এরপর সেনা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে গুলি চালাতে শুরু করে ঐ ব্যক্তি। যদিও তার হামলার উদ্দেশ্য জানা যায়নি। গতকাল সকালে থাই জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী আনুতিন চারনভিরাকুল ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শপিং সেন্টারের ভেতরে অ্যাকশন চালানোর জন্য দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
শপিং সেন্টারে রাতভর যা ঘটল
গতকাল ভোররাত নাগাদ শপিং সেন্টারে হামলাকারীকে চারদিক থেকে নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে ফেলে। এর আগে রাতভর সেখানে থেমে থেমে গুলির আওয়াজ শোনা যায়। ঐ ব্যক্তির খোঁজে শপিং সেন্টারে তল্লাশি চালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনী শত শত মানুষকে উদ্ধার করে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে কর্তৃপক্ষ টার্মিনাল টোয়েন্টিওয়ান শপিং সেন্টার বন্ধ করে দেয়।
থাই গণমাধ্যম জানায়, গোলাগুলিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং তিন জন আহত হয়েছেন; কিন্তু দেশটির কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে খবরটি কেউ নিশ্চিত করেননি। গতকাল ভোর ৫টার পরে নতুন করে গোলাগুলি শুরু হলে সেখানে বাড়তি সেনা মোতায়েন করা হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, ৩২ বছর বয়সি হামলাকারীর মাকে ঐ শপিং সেন্টারের সামনে নিয়ে আসা হয় যাতে তিনি ছেলেকে নিরস্ত্র করতে সাহায্য করতে পারেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির ভয়ংকর অভিজ্ঞতা
শপিংসেন্টার থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, হামলার সময় চারতলার একটি দোকানের সামনে ছিলেন তিনি। এরপর তিনি এবং আরেক ব্যক্তি দৌড়ে বাথরুমে লুকান। প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে থেকে পরে দোতলায় নামতে সমর্থ হন। দোতলায় একটি রেস্তোরাঁয় খাবার টেবিলের নিচে লুকিয়ে ছিলেন কয়েক ঘণ্টা। থাই জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী আনুতিন চারনভিরকুল নিশ্চিত করেছেন, ১৬ জন শপিংসেন্টারেই মারা গেছেন, ৩১ জন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। নিহত এবং আহত মানুষের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কীভাবে শুরু হলো ঘটনা
স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুয়াথাম ফিথাক সেনা ক্যাম্পে ঘটনার সূত্রপাত। সেখানে সন্দেহভাজন হামলাকারী তার কমান্ডিং অফিসারকে হত্যা করে। দ্য পোস্ট জানিয়েছে, কর্নেল আনানথারোটের শাশুড়ি এবং আরেক জন সৈন্যও সেখানে নিহত হন। এরপর হামলাকারী সামরিক ক্যাম্প থেকে বন্দুক ও বিস্ফোরক চুরি করে এবং একটি হামভি ধরনের গাড়িতে সেনা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যায়। শপিংসেন্টারে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি শুরুর আগে আরো কয়েক স্থানে গুলি ছোড়ে ঐ ব্যক্তি।