কাপাসিয়ায় শিউলি আক্তার নামে এক গৃহবধূকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশের দাবি, ঐ গৃহবধূ ও তার স্বামী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গতকাল রবিবার তাকে গাজীপুর কোর্টে পাঠানো হয়। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেনের স্ত্রী।
শিউলির বড়ো ভাই মো. ওমর ফারুক জানান, সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে কাপাসিয়া উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের তার বোনের ভাড়া বাড়িতে শনিবার পুলিশ পাঠায়। পুলিশ অভিযান চালানোর সময় বাড়িতে তার বোন শিউলিসহ তিন জন নারী ছিল। বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে কোনো মাদক পায়নি। পরে বাইরে থেকে ঘুরে গিয়ে পুলিশ দাবি করে শিউলির কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। তাকে থানায় নেওয়ার সময় বাড়ির মালিক শিরিন সুলতানা বিষয়টি জানতে চাইলে, পুলিশ বলে আপনাকে পরে জানানো হবে। থানায় নেওয়ার পর ১ লাখ টাকা দিলে শিউলিকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায়। শিউলির ভাসুর আনোয়ার হোসেন কাপাসিয়া থানার এসআই বিনয় সরকারকে ৮০ হাজার টাকা ঐ রাতেই দেন এবং বাকি টাকা ছেড়ে দেওয়ার পর দেওয়া হবে বলে জানান। পরে গতকাল থানা থেকে বলা হয় শিউলির কাছে ১০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে এবং এ ব্যাপারে মামলা করা হয়েছে। আনোয়ার জানান, তাদের টাকা পুলিশ ফেরত দিয়েছে। তবে, এসআই বিনয় সরকার জানান, তিনি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা গ্রহণ করেননি।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মাদক কেনা-বেচার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে শিউলির কাছ থেকে ১০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে।
কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিউলির স্বামী বাবুল হোসেন মাদক ব্যবসায় জড়িত। বাবুলের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে মামলা হয়েছে। তার অবর্তমানে শিউলি মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে। টাকার বিনিময়ে সমঝোতার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার সামসুন্নাহার পিপিএম বলেন, পুলিশের কেউ নিরীহ কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।