পটুয়াখালী প্রতিনিধি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা ততই সরগরম হয়ে উঠছে। এই আসনে নৌকা প্রতীকের হেভিওয়েট প্রার্থী ছয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকায় এলাকায় একদিকে উন্নয়ন কার্যক্রম, অপরদিকে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। নির্বচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনিসহ সেখানকার দলীয় নেতা-কর্মীরা নেমে পড়েছেন গণসংযোগে। আর প্রতীক বরাদ্দের পর আঁটঘাট বেঁধে নেমেছেন মিছিল-মিটিং ও সভা-সমাবেশসহ প্রচার-প্রচারণায়। এক কথায় বলা যায় সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা এখন তুঙ্গে। তা ছাড়া এলাকায় দলীয় নেতাদের মধ্যে কিছুটা অর্ন্তদ্বন্দ্ব থাকলেও তা তারা ইতোমধ্যে মিটিয়ে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এদিকে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী নতুন মুখ সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদারের সহধর্মিণী সালমা আলম। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং প্রার্থিতা নিয়ে দোটানায় সময়ক্ষেপণ হওয়ায় দলের নেতা-কর্মীদের ঘর গুছিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছতে বিলম্ব ঘটে। এতে সেখানে প্রচার-প্রচারণায় বিএনপি পিছিয়ে রয়েছে।
আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন। এই আসনে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এবং স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট খন্দকার আবদুল আজিজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে এই আসনে ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম ফিরোজ। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হওয়া সত্ত্বেও ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয় এই আসনটি। নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করে নেন আওয়ামী লীগের আ.স.ম ফিরোজ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হলে আ.স.ম ফিরোজকে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নির্বাচিত করা হয়।
এবারের নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চারজন হলেন আওয়ামী লীগের আ.স.ম ফিরোজ (নৌকা), বিএনপির সালমা আলম (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের মো. নজরুল ইসলাম (হাতপাখা) ও কমিউনিস্ট পার্টির মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ (কাস্তে) প্রতীক। এখানে বিএনপির মূল প্রার্থী ছিলেন বিএনপির সাবেক এমপি মো. সহিদুল আলম তালুকদার। দুদকের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিএনপি তার সহধর্মিণী নতুন মুখ সালমা আলমকে মনোনয়ন দেয়।