ইত্তেফাক রিপোর্ট
পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না শেয়ারবাজার। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবারও দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা পাঁচ কার্যদিবস দরপতন হলো শেয়ারবাজারে। গতকাল মূল্যসূচকের পতনের সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
অবশ্য লেনদেনের শুরুর চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। গতকাল লেনদেনের শুরুতে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। এতে ১০ মিনিটেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এর পরই ঘটে ছন্দপতন। দাম বাড়ার পরও কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম আবার কমতে থাকে। তার পরও লেনদেনের প্রথম তিন ঘণ্টা ঊর্ধ্বমুখী থাকে সূচক। কিন্তু শেষ ঘণ্টার লেনদেনে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতন হয়। ফলে ঋণাত্মক হয়ে পড়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ১২৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় স্থান পায়। বিপরীতে দাম কমে ১৬৬টির। দাম অপরিবর্তিত ৬৩টির।
বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের এই দরপতনের ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ্ ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
প্রধান মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৪০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৩৬১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ২১ কোটি ৮ লাখ টাকা।
টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে লাফার্জহোলসিমের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসকে ট্রিমসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকার। ১১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।
এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল, এডিএন টেলিকম, এসএস স্টিল, ওয়াইম্যাক্স, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল, গোল্ডেন হার্ভেস্ট এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৮১ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৭টির, কমেছে ১১৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৫টির।