ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন মুক্তি

ক্ষমতার অপব্যবহার ও তদন্তকার্যে বাধা দেওয়ার দায়ে অভিশংসন হইতে রেহাই পাইলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার আইনসভা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৫২-৪৮ ভোটের ব্যবধানে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ হইতে মুক্তি পান ট্রাম্প। কংগ্রেসের কার্যক্রমে বাধাদানের অভিযোগটিও ৫৩-৪৭ ভোটের ব্যবধানের প্রত্যাখ্যাত হয়। নিয়মানুসারে, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের জন্য সিনেটের মোট ১০০টি ভোটের মধ্যে ৬৭টি ভোটের প্রয়োজন হয়। উল্লেখ্য, বারাক ওবামার আমলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত পরিচালনার জন্য ইউক্রেনের উপরে অনায্যভাবে প্রভাব খাটানো এবং উক্ত অভিযোগ তদন্তে বাধাদানের অভিযোগে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ট্রাম্পকে অভিশংসিত করিয়াছিল। নিম্নকক্ষের ফলাফল বিপক্ষে গেলেও উচ্চকক্ষের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়া অভিশংসনের হাত হইতে মুক্ত হইয়া গেলেন ট্রাম্প।

অভিশংসন হইতে ট্রাম্পের মুক্তির ঘটনা অনেক দিন ধরিয়া চাপের মধ্যে থাকা ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে যে বেশ খানিকটা চাঙ্গা করিয়া তুলিয়াছে তাহাতে সন্দেহ নাই। বিশেষত যেই কয়েক জন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিবেন বলিয়া ধারণা করা হইতেছিল তাহাদের কেহ শেষাবধি দলের বিপক্ষে না যাওয়ার বিষয়টিকে ‘দলীয় সংহতির বিবেচনা’ বলিয়া গণ্য করা হইতেছে। তবে সমালোচকদের মতে, নভেম্বরে মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সঙ্গে সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ আসনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের বিষয়টিও এই ক্ষেত্রে ভালো রকমে কাজ করিয়াছে। ধারণা করা হইতেছে যে, যেই সকল সিনেটরকে নভেম্বরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামিতে হইবে তাহারা কেহই দলের বিপক্ষে যাইয়া অভিশংসনের পক্ষে ভোটাদানের রাজনৈতিক পরিণতির ব্যাপারে নিশ্চিত না পারিবার কারণে শেষাবধি দলীয় লাইনেই ভোটদান করিয়াছেন। এই ক্ষেত্রে আইওয়ার প্রেসিডেন্ট মিট রমনি হইতেছেন একমাত্র ব্যতিক্রম, যিনি দলের বাহিরে যাইয়া ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোটদান করিয়াছেন। রমনি নীতিগত কারণ দেখাইলেও, অনেকের মতে, ট্রাম্পের সহিত বহুদিন হইতেই খারাপ সম্পর্কের কারণেই রমনি এহেন সিদ্ধান্ত লইয়াছেন। রমনির কথা বাদ দিলে, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সুস্পষ্টভাবেই দলীয় লাইনেই ভোট পড়িয়াছে। সিনেটের সিদ্ধান্তের ফলে রিপাবলিকানরা উজ্জীবিত হইয়া উঠিলেও, ডেমোক্র্যাটরা নতুন বাস্তবতায় কোন পথে হাঁটিবে তাহা স্পষ্ট নহে। এতদিন পর্যন্ত এই দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা ট্রাম্পের অভিশংসন লইয়াই মূলত চড়া সুরে কথা বলিয়াছিলেন। এক্ষণে তাহাদিগকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন ইস্যু সামনে আনিয়া আগে বাড়িতে হইবে। অবশ্য এই কাজটি যে খুব একটা সহজ হইবে না, তাহা বলাই বাহুল্য। উল্লেখ্য, অভিশংসন হইতে মুক্ত হওয়ার ফলে ট্রাম্প যে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদের জন্য দলীয় মনোনয়ন পাইতে যাইতেছেন তাহা এক প্রকার নিশ্চিত।

এইদিকে, অভিযোগমুক্ত হইবার স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ছাঁটাই অভিযানে নামিয়াছেন ট্রাম্প। অভিযোগ তদন্ত বা বিচার চলাকালে যেই সকল ব্যক্তি তাহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়াছিলেন তাহাদের উপরেই কোপ পড়িতে শুরু করিয়াছে। সামনের দিনগুলিতে ট্রাম্পের এই অভিযান যে চলমান থাকিবে সেই ব্যাপারে অনেকেই নিশ্চিত।