অপুষ্টিতে পোশাকশ্রমিক কমছে কর্মক্ষমতা

কর্মশালায় বক্তাদের অভিমত

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পোশাক শিল্পখাত বর্তমানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। এই শিল্পেকর্মরত নারী শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির শিকার। অথচ দেশের মোট জাতীয় উত্পাদনের (জিডিপি) ১১.৭ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পোশাক শিল্পখাতে মৌলিক পুষ্টি ও খাদ্য সরবরাহ বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মশালায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ তথ্য তুলে ধরেন। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (জিএআইএন)-এর সহযোগিতায় ‘শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর’ যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় কারিগরী সহযোগিতা দিয়েছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পুষ্টি সেবা বিভাগ।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে পোশাক শিল্পে প্রায় ৩৫ লাখ থেকে ৪২ লাখ শ্রমিক কাজ করেন; যাদের ৬০-৮০ শতাংশই হচ্ছে নারী। সচেতনতার অভাব, খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতা এবং সীমিত আয়ের কারণে এই শিল্পে নিয়োজিত অধিকাংশ শ্রমিক পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত। ফলে তাদের কর্মক্ষমতা কমছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম বলেন, মেধা ও মননকে কাজে লাগানো ও জ্ঞানের রূপান্তরের জন্য এধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করছি, এই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে আপনারা মালিক ও শ্রমিক এই উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারবেন। 

কর্মশালায় জিএআইএন এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার বলেন, আমি মনে করি, এই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না। বরং প্রশিক্ষণকে আরো বাস্তবমুখী করতে হবে।

বক্তারা বলেন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর-২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী রপ্তানি আয়ের ৮৪.২১ শতাংশ আসে পোশাক শিল্প খাত থেকে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারার অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর (২০১৮-১৯ অর্থবছর) তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট জাতীয় উত্পাদনের (জিডিপি) ১১.৭ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। এ রকম বিকাশমান খাত হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে এই শিল্প খাত। বিশেষত যাদের শ্রমে টিকে আছে পোশাকশিল্প। সেই শিল্পে কর্মরত নারী পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে প্রায়ই ৪৩ শতাংশই দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টির শিকার। ২০১৪ সালে প্রকাশিত আইসিডিডিআরবি এর গবেষণায় এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অফিস (আইএলও)-এর ২০১৪ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, অপর্যাপ্ত পুষ্টির কারণে পোশাক খাতের শ্রমিকদের ২০ শতাংশ উত্পাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে।

দুই দিনব্যাপী কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম। কর্মশালায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য, সাধারণ ও আইন -এই তিন ক্যাটাগরিতে মোট ৩০ জন সরকারি কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন, জিএআইএন এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার, জাতীয় পুষ্টি সেবা (জনস্বার্থ পুষ্টি প্রতিষ্ঠান)-এর লাইন ডিরেক্টর ডা. এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন-এর মহাসচিব ফারুক আহমেদ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, গেইন এর পোর্টফোলিও লিড মনিরুজ্জামান বিপুল প্রমুখ। এতে সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায়।