চীনে আরো ৯৭ জনের মৃত্যু

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি চীন থেকে আসা বাংলাদেশি যুবকের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি। চূড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তা প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।  গত ২৯ জানুয়ারি রাতে চীন থেকে ফেরেন নীলফামারীর ডোমারের ঐ বাসিন্দা।         গত শুক্রবার রাতে তিনি অসুস্থ বোধ করলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে তাকে নীলফামারীর ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিত্সকেরা তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাঠিয়ে দেন। অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঐ যুবককে আরো কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এমন সন্দেহে চীনফেরত অপর এক ছাত্রকে রংপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, সে বমি করছিল। তার কিডনির সমস্যা আছে। তারপরও চীন থেকে যেহেতু এসেছে, তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবালা ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের ৩০ বছর বয়সি ঐ ছাত্র রবিবার সকালে চীন থেকে বাংলাদেশে আসে। 

সিঙ্গাপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশির আট রুমমেটকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত সেই বাংলাদেশির (৩৯) চিকিত্সা চালিয়ে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর সরকার। তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর এবং সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে হাইকমিশন।

সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে বাংলাদেশি এই প্রবাসী লিটল ইন্ডিয়ার মুস্তফা সেন্টারে যান। সেখানে গিয়ে কাকিবুকিতের দ্য লিও ডরমেটরিতে অবস্থান করেন তিনি। আক্রান্ত বাংলাদেশির সঙ্গে তার রুমে থাকতেন আরো আট জন। ঐ আট জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। যে ডরমেটরিতে তিনি থাকতেন, সেখানকার বাসিন্দাদের কর্মস্থলে না গিয়ে আপাতত রুমে থাকতেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয় জেনেছে হাইকমিশন। কিন্তু তার ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুধু রবিবারই চীনে মারা গেছে ৯৭ জন। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে এত মানুষ মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম। এ নিয়ে চীনে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়াল ৯০৮-এ। কিন্তু নতুন করে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। চীন জুড়ে প্রায় ৪০ হাজার ১৭১ জন আক্রান্ত হয়েছে। আর ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫১৮ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নতুন ভাইরাস নিয়ে গবেষণা চালাতে চীনে একটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চীনের তথ্য অনুযায়ী, ৩ হাজার ২৮১ জন রোগীকে চিকিত্সাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার নতুন চান্দ্রবর্ষের ছুটি শেষ হলে কর্মস্থলে ফিরছে লাখ লাখ মানুষ। এর আগে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ছুটি বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে কাজের সময়ের মধ্যে পরিবর্তন আনা এবং নির্দিষ্ট কিছু কর্মক্ষেত্র খোলা।

এই ছুটির সময়ের মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২০০৩ সালে সার্স প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। সে সময় চীনে সার্স শুরু হওয়ার পর পুরো বিশ্বে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭৭৪ জন মারা গিয়েছিল। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত চীন থেকে এসেছেন এমন ৫৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষার পর এদের কারো শরীরেই করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এছাড়া চীন বা অন্য দেশের লোকজন আসার পর তাদের স্ক্রিনিং করা হয় এবং তাদের নিয়মিত যোগাযোগের মধ্যে রাখা হয়। তাই তাদের মধ্যে যদি করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত আইসোলেশনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

২৪ ঘণ্টায় স্ক্রিনিং করা হয়েছে ১২,৬৩০ জন যাত্রীর :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, গত ১ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এ পর্যন্ত ৯০ হাজার ২৪৫ জন বিদেশফেরত যাত্রীর করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত মেডিক্যাল স্ত্রিনিং সম্পন্ন করা হয়েছে। সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় স্ক্রিনিং করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৩০ জন যাত্রীর। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত স্বাস্থ্য সচেতনতায় করণীয় শীর্ষক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম  এনায়েত হোসেন, এনএসএস ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের লাইন ডাইরেক্টর ডা. মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

প্রাণি আমদানিতেও সতর্ক সরকার

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে এমন দেশ থেকে প্রাণিসম্পদ আমদানি করলে সেগুলো কমপক্ষে ১৫ দিন কোয়ারেন্টাইনে রেখে পর্যবেক্ষণ করে তবেই ছাড়পত্র দেবে সরকার। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বাংলাদেশে সংক্রমণ এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু। গতকাল সচিবালয়ে ‘মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ই-সেবা কার্যক্রম চালুকরণ’ প্রকল্পের ই-কন্টেন্ট ও ভিডিও কন্টেন্ট নির্বাচন কর্মশালায় তিনি একথা জানান বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।