ড. কামাল ও তার ইহুদি জামাতার বক্তব্যেই পরিষ্কার

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অবিলম্বে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং সংসদ ভবন এলাকা থেকে জিয়াউর রহমানসহ সব স্বাধীনতাবিরোধীর কবর স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতারা। তারা বলেন, বিএনপির সুরে ড. কামাল হোসেন যে কদর্য ভাষায় কথা বলছেন, তার ইহুদি জামাতা যেভাবে দেশবিরোধী কথা বলেই যাচ্ছেন, তাতে জাতির সামনে পরিষ্কার—এই পরিবার দেশের অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া সহ্য করতে পারছে না। মুক্তিযুদ্ধে ড. কামাল হোসেনের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। দেশবাসী আর কোনো দিন দেশবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী ও গণতন্ত্রের লেবাসধারী জনবিচ্ছিন্ন ড. কামাল হোসেনসহ বিএনপি-জামায়াতকে মেনে নেবে না, ক্ষমাও করবে না। ভোট থেকে মানুষের সৃষ্ট দূরত্ব গণতন্ত্রের জন্য বিপদ ডেকে আনবে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।

প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার  সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এইচ এন আশিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, সাগুফতা ইয়াসমীন এমিলি, মোরশেদ আলম, আ কা ম সরওয়ার জাহান, বেগম খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন, বাসন্তী চাকমা ও স্বতন্ত্র দলীয় সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রাশেদ খান মেনন ভোট প্রদান থেকে মানুষের দূরত্ব গণতন্ত্রের জন্য বিপদ ডেকে আনবে মন্তব্য করে বলেন, সিটি নির্বাচনে বিএনপি এসেছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ভোটের দিন তাদের কোথাও দেখা যায়নি। নির্বাচন বানচাল করা, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার তারা কৌশল নিয়েছে।

আ ক ম মোজাম্মেল হক গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, অনেকে বলে, ড. কামাল হোসেন নাকি বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। তার ইহুদি জামাতা ডেভিড বার্গম্যানও অবধারিতভাবে এবং সব সময় বাংলাদেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে যাচ্ছেন। দেশের ধারাবাহিক সাফল্য এই পরিবার যেন মেনে নিতেই পারছে না।

জাতির পিতার নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদানের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। এখনো জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে পারিনি। অবশ্যই দলটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে।’ তিনি লুই আই কানের অমর সৃষ্টি জাতীয় সংসদের মূল নকশা অক্ষুণ্ন রাখতে অবৈধভাবে স্থাপিত জিয়াউর রহমানেরসহ সব কবর স্থানান্তরের দাবি জানান।

মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ আজ সব সূচকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীসহ বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে সরকারের বিরুদ্ধে নানা উসকানিমূলক তত্পরতা চালাচ্ছে। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

এইচ এন আশিকুর রহমান বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই। তাদের ষড়যন্ত্র চলছে, চলবে। যারা বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, দেশ ও দেশের নীতি-আদর্শকে বিশ্বাস করে না, তাদের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই।

শামসুল হক টুকু বলেন, খালেদা জিয়ার ভাষায় এখন ড. কামাল হোসেন সরকারকে টেনে-হিঁচড়ে নামানোর হুমকি দেন। এই ড. কামালের কোনো জনভিত্তি নেই, তাঁর কথা শুনলে মানুষ হাসে।