অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ এনে দেওয়ায় এখন প্রশংসার বন্যায় ভাসছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আকবর আলী; কিন্তু তিনি বুকে কত বড়ো শোকের পাথর নিয়ে এই বিশ্ব আসরে খেলে গেছেন তা হয়তো অনেকেরই অজানা। গত ২২ জানুয়ারি সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান আকবরের একমাত্র বোন খাদিজা; কিন্তু পরিবার থেকে আকবরকে কেউ এই ঘটনা জানায়নি। তারপরও কোনো না কোনোভাবে তিনি ঘটনাটি জেনে যান। তারপর বাড়িতে ফোন দিয়ে কৈফিয়ত চান কেন তাকে জানানো হলো না।
এমন শোক বুকে চেপে খেলাটা যে কারো জন্যই কঠিন; কিন্তু আকবর শোকের সেই পাথর একপাশে সরিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করে গেছেন দেশের জন্য। ফাইনাল ম্যাচে তারই ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ জিতেছে বিশ্বকাপ। আর আকবর পান ম্যান অব দ্য ফাইনালের পুরস্কার। দক্ষিণ আফ্রিকার পোচেফস্ট্রুমে আকবরের দল যখন বিশ্বকাপ জিতেছে তখন রংপুরে তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তাদের দুশ্চিন্তা, ছেলে দেশে ফিরলে তারা কী জবাব দেবেন?
আকবরের বাবা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পাকিস্তান ম্যাচের এক দিন আগে আমার মেয়ে মারা যায়। চার ভাইয়ের একটাই বোন। আকবর সবার ছোটো। আমার মেয়ে আকবরকেই সবচেয়ে বেশি আদর করত। খেলার মধ্যে মৃত্যুসংবাদটা ওকে দিতে চাইনি। তবুও কীভাবে জানি পেয়ে যায়। বাড়ি ফিরলে ওকে কী জবাব দেব আমরা।’
কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সেমিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে চলে যায় স্বপ্নের ফাইনালে। বোনের মৃত্যুশোক বুকে নিয়েই ম্যাচগুলো খেলেছেন আকবর। এই শোক ছুঁয়ে গিয়েছিল গোটা দলকেই।
রংপুর অফিস জানায়, রংপুরের উজ্জ্বল নক্ষত্র আকবর আলীর হাত ধরে প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয় করায় খুদে টাইগারদের নগরবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এই মেধাবী ক্রিকেটারের হাত ধরে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে—এই প্রত্যাশা করেন তিনি।