পাটের ব্যবহার নিশ্চিত করুন

বাংলাদেশে একটা সময় ছিল যখন বাজারে গেলে মানুষজন হাতে করে একটা চট কিংবা কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে যেতেন। আশির দশকে পলিথিনের বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হওয়ার পর মানুষ অভ্যাস পরিবর্তন করে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করতে শুরু করে। পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাবে ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে এর উত্পাদন, পরিবহন, মজুদ ও ব্যবহারকে আইন করে নিষিদ্ধ করা হলেও পলিথিনের ব্যবহার থেমে থাকেনি। রাজধানীসহ সারা দেশ এখন পলিথিনে সয়লাব। সম্প্রতি বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তলদেশে পলিথিনের স্তর পড়ে যাওয়ায় নাব্য করার জন্য ড্রেজিং কার্যক্রম বাধার মুখে পড়েছিল। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এছাড়া খাদ্যদ্রব্য বহনকারী পলিথিন থেকে নির্গত বিষ ‘ফেনাল’ মানবজীবনের প্রাণঘাতী রোগের কারণ।

পলিথিনের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য মাঝে মাঝে দু-একটা অভিযান পরিচালনা ছাড়া দৃশ্যমান তেমন উদ্যোগ নেই। তবে এর মধ্যে আশা জাগিয়েছিল ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন। ময়মনসিংহ বিভাগে পলিথিন নিষিদ্ধ আইন কার্যকর করার সঙ্গে সঙ্গে আবিষ্কৃত সোনালি ব্যাগের বাজারজাতকরণের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে। মানুষ বাজার থেকে পলিথিন ব্যাগের পরিবর্তে সোনালি বা পাটের ব্যাগে বা সুতার নেটে করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বাসায় ফিরছে। ইদানীং নজরদারি কিছুটা কমে যাওয়ায় পলিথন আবার সহজলভ্য হতে শুরু করেছে। যদি ময়মনসিংহ বিভাগের মতো দেশের সবকটি বিভাগেই পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলে হয়তো বাংলাদেশ পলিথিনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেত। সার্থক হতো ড. মাকসুদুল আলমের পাটের সোনালি ব্যাগ। গাজীপুরের এক্সপো অ্যাকসেসরিজ কোম্পানি কর্তৃক শস্যদানা থেকে উত্পাদিত স্বচ্ছ পলিথিনের আবিষ্কার পোশাকের মোড়ক হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।  আর এজন্য সবার আগে প্রয়োজন পলিথিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার উপযোগী সোনালি ব্যাগ ও শস্যদানা থেকে উত্পাদিত স্বচ্ছ পলিথিন স্বল্পমূল্যে বাণিজ্যিক উত্পাদন ও ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।

মোহাইমিনুল ইসলাম খান

গোলাপজান রোড, কাচিঝুলি, ময়মনসিংহ