ভাড়া করা ভবনে চলছে কার্যক্রম

পাবনা শিল্পকলা একাডেমি

রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার শিল্পকলা একাডেমি ভবন ও মিলনায়তনের নির্মাণকাজের মেয়াদ দুইবার বাড়ালেও যথাসময়ে কাজ শেষ হবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এতে বিড়ম্বনায় পড়েছেন একাডেমির শিক্ষার্থীরা। ভাড়া করা ভবনে কার্যক্রমসহ গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে তাদের।

গণপূর্ত বিভাগের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মে মাসে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা শহরের কাচারিপাড়া মহল্লায় চারতলা ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণের সময় নির্ধারণ ছিল ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে সময় আরো এক বছর বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুন মাস পর্যন্ত করা হয়। এরপরও নির্মাণ শেষ হয়নি। ফলে দ্বিতীয় দফায় আবার ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। মঙ্গলবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল পাবনা সফরে এসে নির্মাণাধীন শিল্পকলা একাডেমি পরিদর্শন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কবীর মাহামুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মারুফা মঞ্জুরি খান সৌমী  ও গণপূর্ত বিভাগ জেলা কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম খান। পরিদর্শন শেষে সচিব বলেন, সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধশালী জেলাগুলোর মধ্যে পাবনা অন্যতম। শুধু মিলনায়তনের অভাবে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকশিত হচ্ছে না। সংগঠনগুলো অনেক কষ্ট করে তাদের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, ইচ্ছা ছিল নতুন শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে মুজিববর্ষ উদ্যাপন করা হবে। কিন্তু নির্মাণকাজের ধীরগতি সে ইচ্ছায় ব্যাঘাত তৈরি করেছে। নতুন করে বাড়ানো মেয়াদের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না হলে ঠিকাদার ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মারুফা মঞ্জুরি খান সৌমী জানান, জেলা পরিষদের কাছ থেকে মাসে ৮ হাজার টাকা ভাড়ায় তিনটি কক্ষ নিয়ে কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে সংগীত, নৃত্য, নাট্যকলাসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৩০০ জন। দিনে দিনে একাডেমিতে প্রশিক্ষণার্থী বাড়ছে। কক্ষ সংকটে মাঝে-মধ্যে তাদের উঠানে বসে ক্লাস করাতে হচ্ছে। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমির নিজস্ব কর্মসূচিও থাকে। মিলনায়তনের অভাবে খোলামাঠে সেসব কর্মসূচি পালন করতে হয়। বিষয়টি বেশ কয়েকবার গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে। এরপরও ভবনটির নির্মাণ শেষ হচ্ছে না।

নাট্য সংগঠন পাবনা ড্রামা সার্কেলের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল বলেন, ‘একটি মিলনায়তনের জন্য আমাদের আকুতি বহুদিনের। শেষ পর্যন্ত সেটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও যথাসময়ে শেষ না হওয়াটা বেদনাদায়ক।’ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘ভবনটির জন্য সাংস্কৃতিকর্মীরা অপেক্ষা করে আছেন। অপেক্ষার দ্রুত অবসান হওয়া উচিত’। গণপূর্ত বিভাগের পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম খান বলেন, ‘ভবনটির কাজ দ্রুত শেষ করতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বাকি কাজ শেষ করতে বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। মাঝখানে কিছু জটিলতায় কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।’