বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নতুন শতাধিক গ্রন্থ

জন্মশতবর্ষ সামনে রেখে দেশ জুড়েই চলছে নানা প্রস্তুতি। বইমেলায়ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ সামনে রেখে প্রায় প্রতিটি প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান নতুন নতুন বই প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে গবেষণা গ্রন্থ। এর পাশাপাশি স্মৃতিকথা, কবিতা, ইতিহাস আশ্রয়ী গল্প-উপন্যাস। এই কদিনেই মেলায় বঙ্গবন্ধুর ওপরে শতাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। মেলায় বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও লেখালেখি, তার জীবন ও কর্মকে। প্রকাশকেরাও তাদের স্টল ও প্যাভিলিয়নে অঙ্গসজ্জা ফুটিয়ে তুলেছেন বঙ্গবন্ধুর ছবিতে। এছাড়া এ বছরই রেকর্ডসংখ্যক বই প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর। একাডেমির অনুষ্ঠানমালার মূল মঞ্চে প্রতিদিনই থাকছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত গ্রন্থের ওপর বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আগামী প্রকাশনীর স্টলের সামনে গেলেই দেখা যাবে বঙ্গবন্ধুর চিরচেনা সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি-কোট পরা ছবি। দেখে মনে হবে বঙ্গবন্ধু জনতার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এ ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন বয়সের পাঠক ছবি তুলছেন। কেউ কেউ সেলফি তুলছেন। প্রকাশনা সংস্থা কথা প্রকাশ আর ইউনিভার্সিটি পাবলিশার্সের সাজসজ্জা আরো দৃষ্টিকাড়া। তাদের প্যাভিলিয়ন জুড়ে শুধু বঙ্গবন্ধুর ছবি। প্যাভলিয়নের ওপরের চারদিক ঘিরে শোভা পাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছবি।

বইমেলায় প্রথমবারের মতো তৈরি করা হয়েছে ‘মুজিব পাঠাগার’। পাঠাগার ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ওপর নানান বইয়ের পাশাপাশি কিছু দুর্লভ ছবি। মেলায় আসা লোকজন সেগুলো বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখছে। বঙ্গবন্ধু অনুরাগীরা বই কিনে যাতে মেলায় পড়তে পারে, সেজন্য রয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু পাঠ’ নামে একটি কর্নার।

বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘আমার দেখা নয়াচীন’সহ বাংলা একাডেমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ২৬টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। এছাড়া আগামী দুই বছর বাংলা একাডেমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১০০ বই প্রকাশ করবে। প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সৈয়দ শামসুল হকের শিশুতোষ ‘বঙ্গবন্ধুর বীরগাথা’, হারুন-অর-রশিদের ‘বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব :কী ও কেন’, অজয় দাশগুপ্তের ‘বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন কৌশল ও হরতাল’, নূহ-উল-আলম লেনিনের ‘রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতায় শেখ মুজিব’। প্রকাশের অপেক্ষায় আছে অনুপম হায়াতের ‘বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র’, মোহাম্মদ আলী খানের ‘ডাকটিকিট ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধু’, জালাল ফিরোজের ‘বঙ্গবন্ধু গণপরিষদ সংবিধান’, সাইমন জাকারিয়ার ‘সাধক কবিদের রচনায় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতি’, সমীর কুমার বিশ্বাসের ‘বঙ্গবন্ধুর সমবায় বাংলা’, পিয়াস মজিদের ‘মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলা একাডেমি’ প্রভৃতি বই।

বইমেলায় গ্রামীণফোনের মোবাইল টাওয়ার ভেঙে পড়ল

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় গ্রামীণফোনের অস্থায়ী টাওয়ারটি ভেঙে পড়েছে। হঠাত্ বিকট শব্দে টাওয়ারটি ভেঙে পড়ায় মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে দিগিবদিক ছুটতে দেখা যায়। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লিটলম্যাগ চত্বরের পেছনে বিসমিল্লাহ কাবাব নামের একটি দোকানের পাশে স্থাপন করা টাওয়ারটি ভেঙে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর এই জায়গায় লোকজনের ভিড় থাকে। বিকেলে লোকজন কম ছিল। হঠাত্ বিকট শব্দে টাওয়ারের ওপরের অংশ ভেঙে পড়ে। ভাগ্য ভালো যে বড়ো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

বইমেলায় দায়িত্বরত ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে খুব দ্রুত উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।

নতুন বই

গতকাল মেলার দশম দিনে ১৫২টি নতুন গ্রন্থ এসেছে। পার্ল পাবলিকশন্স এনেছে রামেল ইয়ামীনের কাব্যগ্রন্থ ‘এখানে কেউ নেই’, খেয়া প্রকাশনী এনেছে মো. রাব্বি আহসানের ‘কসমিক লাইফ’, শিশু গ্রন্থকুটির এনেছে ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থের ‘হ্যালো মি. গাবলু’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এনেছে শাহরিয়ারের ‘বেসিক আলী-১২’, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের উপন্যাস ‘ত্রয়ী’, বদিউর রহমানের ‘ড্রীম গার্লস’, অবসর এনেছে নাবিল মুহতাসিমের ‘জুয়নবিদ্যা’, মহি মুহাম্মদের ‘ভাড়াবউ’, সাত ভাই চম্পা প্রকাশনী এনেছে খালেক বিন জয়েন উদ্দীনের ‘বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেল’, সুলো প্রকাশনী এনেছে ‘ক্লাসের ফাঁকে বিজ্ঞান প্রজেক্ট’ প্রভৃতি।

মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান

গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মোহাম্মদ আলী খান রচিত ‘ডাকটিকিট ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক আতাউর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাবেক সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার ও কবি নজরুল ইন্সটিটিউটের প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক ইকরাম আহমেদ। গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন মোহাম্মদ আলী খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি সোহরাব পাশা, রহিমা আখতার কল্পনা, শিহাব শাহরিয়ার ও অনিকেত শামীম। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মাহফুজুর রহমান, অনন্যা লাবনী পুতুল ও শহিদুল ইসলাম নাজু। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, রথীন্দ্রনাথ রায়, শফি মণ্ডল, সালমা চৌধুরী, মো. রেজাউল করিম ও শুভ্রা দেবনাথ। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সমস্বর’। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন গৌতম মজুমদার (তবলা), মো. হাসান আলী (বাঁশি), মো. দেলোয়ার হোসেন (দোতারা), আনোয়ার সাহদাত রবিন (কি-বোর্ড)। 

লেখক বলছি

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন সুহিতা সুলতানা, তাপস রায়, মাহবুব ময়ূখ রিশাদ ও সাঈদ আজাদ।