শাহজাহানপুরে পাইপে পড়ে শিশু জিহাদের মৃত্যু
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ঢাকার শাহজাহানপুরে পরিত্যক্ত গভীর পাইপে পড়ে তিন বছরের শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় নিম্ন আদালতে দণ্ডিত চার আসামিকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। দণ্ডিতদের আপিল গ্রহণ করে গতকাল বুধবার ঐ সাজার রায় বাতিল করে দেয় বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত বলেন, রেলওয়ে অ্যান্ড ওয়ার্কস ম্যানুয়ালে পরিত্যক্ত নলকূপ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে আপিলকারীদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা পর্যাপ্ত সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এ কারণে তাদের দেওয়া নিম্ন আদালতের সাজা বাতিল করা হলো। এদিকে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শাহজাহানপুরে বাসার কাছে রেলওয়ে মাঠের গভীর পাম্পের পাইপে পড়ে মারা যায় জিহাদ। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ চার আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই বছর করে কারাদণ্ড দেয়। এরা হলেন—শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে পানির পাম্প বসানোর প্রকল্প পরিচালক রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসআরের মালিক প্রকৌশলী আবদুস সালাম ওরফে শফিকুল ইসলাম, কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন ও ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার জাফর আহমেদ শাকি। খালাস পান দুই আসামি। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দণ্ডপ্রাপ্তরা। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী সারওয়ার আহমেদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীন শুনানি করেন।