সর্বহারার নেতৃত্বে রাজধানী ও সিলেটে সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্র

দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা দলের সদস্যরা এখন ঢাকা ও সিলেট নগরীতে ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এরা মহানগরীর অভিজাত এলাকাকেই ছিনতাইয়ের মোক্ষম জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে। পাশাপাশি বিক্রি করছে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। গত দুই বছর ধরে চক্রটি ছিনতাই ও ইয়াবা ব্যবসার কাজটি চালিয়ে গেলেও তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি হতে হয়নি।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরায় প্রকাশ্য দিবালোকে রিকশাযাত্রী এক স্কুল শিক্ষিকার ভ্যানিটি ব্যাগ (যাতে ছিল টাকা ও মোবাইল ফোন), স্বর্ণের চেইন ও হাতের বালা ছিনতাই করে। আর কাজটি করে মাত্র ৩৪ সেকেন্ডে। আর এ ঘটনা ঘটনাস্থলের কোনো এক ভবনের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এরপর ঐ ভবন মালিক সিসিটিভিতে ধারণ করা ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেন। সঙ্গে সঙ্গে এটি ভাইরাল হয়। টনক নড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। আর ঘটনার তিন সপ্তাহের মধ্যে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের একটি টিম এ চক্রের দলনেতা সারজুল ওরফে বাদশাসহ তিন জনকে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের নিকট হতে একটি দেশীয় তৈরি পাইপ গান, একটি দেশীয় রিভলবার, দুই রাউন্ড ১২ বোর কার্তুজ, দুই রাউন্ড গুলি, ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মোবাইল সেট, একটি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং দুইটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।             ডিবি পুলিশ তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে দলনেতা সর্বহারা দলের সদস্য সারজুল।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর মনিটরিংয়ের কারণে রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য খুব একটা নেই। আগে যেখানে প্রতি মাসে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় কম করে হলেও ১৫ থেকে ৩০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটত। বিশেষ করে গুলি করে, বোমা ফাটিয়ে টাকা কেড়ে নেওয়ার ঘটনা নেই বললেই চলে। যা ঘটে তার সিংহভাগই টানাপার্টি ছিনতাই। আর এগুলো হয়ে থাকে বাসটার্মিনাল ও আশপাশ এলাকায়।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃত সারজুল ওরফে বাদশা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তার নেতৃত্বে রাজধানী ও সিলেটের অভিজাত এলাকায় ছিনতাইচক্র গড়ে উঠেছে। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের বলিভদ্রপুর। এক সময় ছিলেন সর্বহারা দলের সদস্য। পরবর্তীতে সরকারের সাধারণ ক্ষমায় আত্মসমর্পণ করেন। এরপর যোগ দেন আনসার বাহিনীতে। কিন্তু এ চাকরি তার ভালো লাগেনি। পরবর্তীতে জড়িয়ে পড়েন অপরাধ কর্মকাণ্ডে।