সাত জেলার বিস্তীর্ণ হাওর কেন্দ্রিক মানুষের প্রধান ফসল বোরো ধান। তাই কোনো কারণে বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা বিষাদে পরিণত হয়। ইদানিং পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা বেড়ে গেছে। হাওরে সচরাচর এপ্রিলের শেষ বা মে মাসের প্রথম দিকে বন্যা হলেও বর্তমানে মার্চের শেষ বা এপ্রিলের প্রথম দিকে পাহাড়ি ঢল নামে। এতে বোরো ধান ঘরে তোলার আগেই পানিতে ভেসে যায়।
হাওর অঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা এ থেকে উত্তরণের পথও বের করেছেন। সনাতন পদ্ধতিতে বীজ হতে ১৫০ থেকে ১৬৫ দিনে বোরো ধান কাটা সম্ভব; কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বীজের মাধ্যমে ৯০ থেকে ১৩০ দিনের মধ্যেই বোরো ধান পাওয়া সম্ভব। অর্থাত্ এই বীজ চাষ করলে কৃষক বন্যার আগেই বোরো ধান ঘরে তুলতে পারবেন। কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের এনএটিপি-২ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত গবেষণায় আরো দেখা যায়, স্বল্প মেয়াদি জাতের ধান, বিভিন্ন উফসি জাতের ধান, লম্বা জাতের ধান, প্রচলিত জাতের ধান, বেশি বয়সে চারা রোপণ, আগাম চারা রোপণসহ সমন্বিত কৌশল অবলম্বন করার পাশাপাশি জমির ধান তিন-চতুর্থাংশ পাকলেই ঘরে তোলার মাধ্যমে আগাম বন্যা মোকাবেলা করা সম্ভব। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সম্ভাব্য বন্যার তারিখ ধরে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে স্বল্প মেয়াদি ধান যেমন বিনা ধান-১৪, ১০, ১৮ কিংবা ব্রি ধান-২৮, ৫৮, ৮১ রোপণ করতে পারলে সহজেই আকস্মিক বন্যায় ফসল হানি এড়ানো যেতে পারে। এছাড়া কান্দার জমিতে দীর্ঘ মেয়াদি জাত যেমন ব্রি ধান-২৯, ৮১ রোপণ করা, নিচু জমিতে ব্রি ধান-২৮ রোপণ করে তিন মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। অথবা একটু বয়স্ক ৩৫-৪০ দিনের চারা রোপণ করেও নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছর জানুয়ারির ৭ তারিখে জমিতে চারা লাগিয়ে এপ্রিলের ৪ তারিখে ফসল কাটা সম্ভব হয়েছে। বিনা ধান ১৪ লাগানোর মাধ্যমে ১৩০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। এতে হেক্টর প্রতি ৬ দশমিক ২ টন ফলন পাওয়া গেছে।
প্রকল্পের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাওরে বোরো ধান চাষ করলে আগাম বন্যায় ফসলহানির মাত্রা কমিয়ে আনার পাশাপাশি হাওরাঞ্চলে জীবনমানের উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব। কৃষকরা এসব জাতের ধানের বীজ ব্যাপকভাবে বাজারজাতের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এদিকে বিএডিসি সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালক সুপ্রিয় পাল ইত্তেফাককে জানান, বিনা-১৪ ধান বীজ মওজুদ আছে। এগুলো দেওয়া হবে সময়মত। আর অন্যান্য জাতের অনেক দানের বীজ মাঠ পর্যায়ে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে আরো বেশি করে বিপণন করা হবে।