প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের ওপর একজন বিচারপতির লেখা বই, এটা আমাদের জন্য গৌরবের। হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের লেখা ‘অবর্ণনীয় নির্মমতার চিত্র : বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধকে প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আপনজনদের কাছ থেকে স্বজনহারানো বেদনাবিধুর ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড এবং অপহরণের ঘটনা সম্যক অবহিত হন। যা তার গ্রন্থ রচনায় উত্সারিত ও অনুপ্রাণিত করেছে। তার ক্ষুরধার লেখনির মাধ্যমে একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অবর্ণনীয় নির্মমতার চিত্র পরস্ফুিটিত হয়েছে। এটা যে কোনো পাঠকের হূদয়কে স্পর্শ করবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমান এবং আগামী প্রজন্ম তার এ গ্রন্থ থেকে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী, রাজাকার-আলবদর ও তাদের দোসরদের নির্যাতন এবং বর্বরতার ভয়াবহ চিত্র সম্পর্কে জানতে পারবে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বিচারের সঙ্গে আমিও একজন বিচারক ছিলাম আপিল বিভাগে। গতকাল রাতে যখন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের এ বইটি পড়ি সেখানে দেখলাম তিনি অনেক এভিডেন্স কোট করেছেন সংক্ষিপ্তভাবে। আমরা আদালতে প্রত্যেক এভিডেন্স টপ টু বটম পড়েছি। বইয়ে আমার আবার স্মৃতিচারণের মতো মনে হলো যে-আবার সবকিছু দৃশ্যপটে ভেসে উঠছে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট জাজেস কর্নারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের পদমর্যাদায় থাকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।