নওগাঁর রাণীনগরের জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ সড়ক। গত বছরের শুরুর দিকে রাস্তা প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
নওগাঁ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের আওতায় ২২ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ১৮ কিলোমিটার রাস্তার পিচ তুলে ইটের খোয়া ও বালি দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট হাতিরপুল ব্রিজ থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার রাস্তার পিচ তুলে ফেলা হলেও কাজ না ধরায় অবস্থা বেহাল হচ্ছে। ঐসব অংশে নিয়মিত পানি না দেওয়ায় দিনে-রাতে উড়ছে ধুলাবালি। এতে করে প্রতিদিনই ঘটছে ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা। আবাদপুকুর বাজারের ব্যবসায়ী রুহুল আমীন বলেন,‘ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এক দিন কাজ করলে আর তিন মাস কোনো খবর থাকে না। কিন্তু বর্তমানে রাস্তায় নিয়মিত পানি না দেওয়ায় ধুলা আর বালির কুয়াশার কারণে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলাচল করা শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এমন সড়কের জন্য নিয়মিত পানি ছিটানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পথচারী আবু রায়হান, রহিদুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, কোনোমতে রাস্তার ওপরের পিচ দেওয়া অংশটি তুলে রাস্তায় যা ছিল সেগুলোর ওপর দিয়েই রোলার দিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়াও জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধানের হাট আবাদপুকুরে চলাচল করার জন্য এটিই একমাত্র প্রধান সড়ক হওয়ায় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের লোক পড়েছে চরম বিপাকে। আর ঘটেই চলেছে ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ও প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী মো. হুমায়ন কবীর বলেন, বিভিন্ন কারণে এই সড়কের কাজ বহুবার বন্ধ রাখা হয়েছিল। আবার কাজ শুরু করা হয়েছে। গাড়ী নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে রাস্তায় পানি ছিটানো সম্ভব হচ্ছে না। রাস্তার কাজে কোনো অনিয়ম কিংবা দুর্নীতি করা হয়নি। তবে অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হামিদুল হক বলেন, নানা কারণে এই রাস্তার সংস্কার কাজ বিভিন্ন সময়ে বন্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে কাজ চলমান আছে। তবে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারবে না ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও রাস্তায় নিয়মিত পানি ছিটানোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আর আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত কাজ মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে তার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।