যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শহর ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করেছে। ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের ক্যাম্ব্রিজ শহর কাউন্সিল নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। এর আগে সিয়াটল শহর কর্তৃপক্ষ একই দাবিতে একটি প্রস্তাব পাশ করে। —খবর আল জাজিরার
মঙ্গলবার ক্যাম্ব্রিজ শহর কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান বহাল রাখতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহার করা উচিত। এজন্য ভারতের পার্লামেন্টকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে প্রস্তাবে বলা হয়েছে। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ভারতের পদক্ষেপের বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে কাউন্সিল মনে করে। কাউন্সিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদক্ষেপকে বর্ণবাদী এবং নির্যাতনমূলক বলে মনে করে। মার্কিন কংগ্রেসে ভারতের নতুন আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করতে প্রতিনিধিদের উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছে সিটি কাউন্সিল। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারত সফর উপলক্ষ্যে দুই শহরের এ ধরনের প্রস্তাব পাশ তাত্পর্য বহন করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এছাড়া কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে চিঠি পাঠিয়েছেন সিনেটররা।
মার্কিন সিনেটরদের উদ্বেগ
দুই ডেমোক্র্যাট ও দুই রিপাবলিকান সিনেটর পম্পেওকে দেওয়া চিঠিতে বলেছেন, এখনো পর্যন্ত কাশ্মীর উপত্যকার অধিকাংশ জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছে ভারত সরকার। বিশ্বের আর কোনো গণতন্ত্রে এতদিন পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নজির নেই। এতে ৭০ লাখ মানুষের জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিত্সা পরিবেষা, মার খাচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থাও। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে কাশ্মীরকে এভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখার ফলাফল মারাত্মক হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন সিনেটররা। তারা বলেন, বিশিষ্ট রাজনীতিকসহ নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে শত শত কাশ্মীরিকে আটক করে রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলাফল মারাত্মক হতে পারে। সিনেটরদের মধ্যে অন্যতম হলেন ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লিনজি গ্রাহাম।