রাষ্ট্রদূত নিয়োগে ‘ফিট লিস্ট’

বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার নিয়োগে ‘ফিট লিস্ট’ তৈরি করা হবে। বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করবেন এমন কর্মকর্তাদের যোগ্যতা, মেধা ও দক্ষতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইবাছাই করা হবে। চূড়ান্তভাবে যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা তথা ‘ফিট লিস্ট’ তৈরি করে পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার নিয়োগ দেওয়া হবে।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহসাই ‘ফিট লিস্ট’ তৈরির কাজ শুরু করবে। ফিট লিস্টের ব্যাপারে ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পররাষ্ট্র সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ব্যাচওয়ারি তালিকা করবে। অবসর, বদলি বা অন্য কারণে রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য হলে পর্যায়ক্রমে যোগ্য তালিকা (ফিট লিস্ট) থেকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ে কর্মরত মহাপরিচালক মিশনে কর্মরত মিনিস্টার, উপ-মিশন প্রধান বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ‘ফিট লিস্ট’ তৈরি করা হবে। এক বা দুই বছরের জন্য তৈরিকৃত ‘ফিট লিস্টের’ সব কর্মকর্তা রাষ্ট্রদূত নিয়োগ পাওয়ার পর নতুন করে আবার ‘ফিট লিস্ট’ তৈরি করা হবে।

একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ‘ফিট লিস্ট’-এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার চাকরির রেকর্ড, শৃঙ্খলা রিপোর্ট, দক্ষতা ছাড়াও বিদেশে বিভিন্ন পদে কর্মরত থাকাকালে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। উদাহরণ হিসেবে একটি সূত্র জানায়, প্রথম সচিব বা অন্য পদে কোনো কর্মকর্তা লন্ডন মিশনে তিন বা চার বছর দায়িত্ব পালনের সময় তার পারফরম্যান্স দেখা হবে। বর্তমানে প্রায় ৬০টি দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার রয়েছে। এদের মধ্যে পররাষ্ট্র সার্ভিসের পেশাদার কূটনীতিক রয়েছেন ৭০ শতাংশ। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ রাষ্ট্রদূতের পদ সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ও চুক্তিভিত্তিক ব্যক্তিবর্গ।

রাষ্ট্রদূত নিয়োগের জন্য ‘ফিট লিস্ট’ তৈরির উদ্যোগ কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়ে যোগ্যতা, পোস্টিংয়ের স্থান ও ক্যারিয়ার ব্যাকগ্রাউন্ড বিবেচনা না করেই রাষ্ট্রদূত নিয়োগ হয়েছে। কখনো কখনো স্বজনপ্রীতি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রাধান্য পেয়েছে। নৈতিক, আর্থিক অপরাধে অভিযুক্ত কর্মকর্তাও রাষ্ট্রদূত হয়েছেন। যার ফলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। যোগ্য কর্মকর্তারা হতাশ হয়েছেন। গত কয়েক বছরের এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে। ‘বড়ো কর্তার’ সন্তুষ্টিতে ব্যস্ত ছিলেন তদবিরকারী রাষ্ট্রদূতরা।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যই ফিট লিস্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।

উল্লেখ্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক নিয়োগের জন্য বরাবরই ‘ডিসি ফিট লিস্ট’ তৈরি করে থাকে। কয়েক জন সিনিয়র সচিব উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ইন্টারভিউ নিয়ে থাকেন।