তরিক্বত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেছেন, কূটনৈতিক কারণে পাকিস্তানে বাংলাদেশের ক্রিকেট দল খেলতে গিয়েছিল। অথচ খেলার সময় স্টেডিয়ামে যুদ্ধাপরাধী নিজামীকে নিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। এতেই স্পষ্ট, পাকিস্তান এখনো তাদের অবস্থান থেকে এতটুকুও সরে যায়নি। এজন্য তিনি মওদুদিবাদী জামায়াতে ইসলামের রাজনীতি দ্রুত নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মাইজভাণ্ডারী এই দাবি জানান।
প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় আরো অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, সরকারি দলের আসলাম হোসেন সওদাগর, বেগম মোছা. শামীমা আক্তার খানম, এম এ মতিন, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, হাসিবুর রহমান স্বপন, কাজী নাবিল আহমেদ, সেলিমা আহমাদ, এম আবদুল লতিফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন, তরিক্বত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, গণফোরামের মোকাব্বির খান ও বিএনপির মোশাররফ হোসেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘এই সংসদে আগে অকথ্য গালিগালাজ, অসভ্য ভাষার ব্যবহার দেখেছি। কিন্তু বর্তমান সংসদে সেই চিত্র আর নেই।’ তিনি ভবিষ্যতে স্পিকারকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করলে সভাপতির আসনে থাকা ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, এত তাড়াতাড়ি বিদায় দিতে চাইছেন? জবাবে রাঙ্গা বলেন, ‘বিদায় নয়, আপনাকে আরো উচ্চ আসনে দেখতে চাই।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এ অর্জন অনেক পরিকল্পিত ও কষ্টার্জিত। শুধু বিএনপি নয়, বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে প্রত্যেক দলকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে মেনেই করতে হবে।
ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুই আমাদের জাতির পিতা, এটা নিয়ে অন্য কথা জাতি সহ্য করবে না।’
সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান কামাল বলেন, এই সংসদেই বঙ্গবন্ধু বলেছেন, আমাকে কে হত্যা করবে, আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। কিন্তু বেইমান-মোনাফেক-বিশ্বাসঘাতক মুশতাক-জিয়াউর রহমানসহ কতিপয় সামরিক অফিসারের হাতেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে জীবন দিতে হলো। এ কলঙ্ক কোনোদিন মুছবে না।
বিএনপির মোশাররফ হোসেন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি জানিয়ে বলেন, সারাদেশে গণতন্ত্রহীনতা, শাসনহীনতা চলছে। ৭৪ বছর বয়সি খালেদা জিয়াকে জামিনযোগ্য মামলাতেও জামিন দেওয়া হচ্ছে না। বড়ো বড়ো ব্যাংক লুটেরা, হত্যাকারী, সন্ত্রাসীরা জামিন পেলেও মাত্র ২ কোটি টাকার মামলায় বিএনপি নেত্রীকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে, তার জীবন এখন সংকটাপন্ন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ, বয়সের কথা বিবেচনা করে অসুস্থ বিএনপি নেত্রীকে মুক্তি দিন। গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত স্নেহ ও আস্থাভাজন ছিলেন। যত বেশি ভিন্ন মতের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল হব, সংসদ তত প্রাণবন্ত হবে।’