হাকালুকিতে বেড়েছে এবার
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস
টাঙ্গুয়ার হাওরে এবার অতিথি পাখি কম আসায় পাখিপ্রেমিকসহ সংশ্লিষ্টরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, সিলেটের শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের হাকালুকি অতিথি পাখির কলতানে মুখর।
তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্দু বাবুল বলেন, টাংগুয়ায় এখন মাছও নাই পাখিও নাই। তিনি বলেন, ‘একসময় টাঙ্গুয়ার আকাশ ঢাকা পড়ত পাখির পালকে। হিজল গাছের পাতা দেখা যেত না অতিথি পাখি বসলে। কিন্তু এখন এসব রূপ কথার গল্প।’ তিনি বলেন, ‘মাছ, পাখি, গাছসহ নানা জীববৈচিত্র্যের আঁধার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে লুটেরাদের তাণ্ডবে।’
তবে, হাকালুকিতে আগের দুই বছর পাখির সংখ্যা কমে গেলেও এবার কিছুটা বেড়েছে। ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও আইইউসিএন বাংলাদেশ পরিচালিত যৌথ জরিপে এই তথ্য জানানো হয়। বার্ড ক্লাবের সদস্য পাখি বিশেষঞ্জ ইনাম আল হক ও পল থমসনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পাখি শুমারি চালায়। তারা দেশের ছোটো-বড়ো ৪০টি বিলে শুমারি চালান। এ সময় দেশের ৫১টি প্রজাতির মোট ৩৭ হাজার ৯৩১টি জলচর পাখি পাওয়া যায়।
অতিথি পাখিরা হাওর বা জলাশয়ে হিজল, করচ, বরুন, আড়াং গাছেই গড়ে তুলে তাদের অস্থায়ী নিবাস। হাওর পাড়ের অধিবাসীরা জানান, ইতিমধ্যে বড়ো বড়ো দলে হাওরের পিংলা, চাতলা, পরতি, চৌকিয়া, হাওর খাল, মালাম, গৌড়কুড়ি, নাগুয়া, তুরল, ফুটবিলে বিভিন্নজাত ও রঙের অতিথি পাখির দেখা পাওয়া যায়।
জানা যায়, পুরো শীত মৌসুমে এসব পাখি সিলেটের বিভিন্ন হাওর এলাকায় উড়ে বেড়ায়। আর বসন্তে ধীরে ধীরে তাদের অস্থায়ী ঠিকানা গুটিয়ে সুদূর সাইবেরিয়াসহ নিজ নিজ দেশের উদ্দেশে চলে যায়। পশ্চিমের শীত সহ্য করতে না পেরে এসব পাখি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে।
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে বিষটোপ দিয়ে পরিযায়ী পাখি শিকারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এদিকে ভূকশিমইল, সুজানগর ও জায়ফর নগর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তাদের প্রতিবেশী অনেকেই এসব বিলে বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদ পেতে জাল ও বিষটোপ দিয়ে প্রতিদিন ভোর, বিকাল ও রাতে পাখি ধরছে শিকারিরা। মৌলভীবাজার, সিলেট বিভাগীয় শহরেও বিক্রি হচ্ছে এসব অতিথি পাখি। বিভিন্ন সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে শিকারিরা পাখি শিকার ও বিক্রি করে।
বাংলাদেশ হাওর বাঁচাও কৃষক বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশা জানান, একশ্রেণির অসাধু পাখি শিকারি ওদের নিধনে ফাঁদ পাততে শুরু করেছে। এদের কবল থেকে অতিথি পাখি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের শিগিগর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, তিনি হাকালুকি হাওরে গিয়ে পাখির আনাগোনা দেখতে পেয়ে অভিভূত। তিনি বলেন, পাখি শিকারিদের ধরতে শিগিগর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।