মুশফিক-মার্শালের দিনে নাঈমও উজ্জ্বল

স্পোর্টস রিপোর্টার

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) তৃতীয় রাউন্ড মাঠে গড়িয়েছে কক্সবাজারের দুটি মাঠে। যেখানে হোটেল বিড়ম্বনায় পড়েছে দলগুলো। ফাল্গুনের শুরু, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে এখন উপচেপড়া পর্যটকের ভিড়। অনেক হ্যাপার পর হোটেল পেলেও তা বারবার পরিবর্তন করতে হচ্ছে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল ও ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলকে। ফ্র্যাঞ্চাইজি দুটি দল আবাসনের সংকটে পড়লেও বিসিবির অধীনে থাকা দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলকে অবশ্য খেলার বাইরে হোটেল নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না।

কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গতকাল বিসিএলের তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে দুটি সেঞ্চুরি হয়েছে। সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিকুর রহিম ও মার্শাল আইয়ুব। তাদের দিনে বল হাতে আলো কেড়েছেন অফস্পিনার নাঈম হাসান। পূর্বাঞ্চলের হয়ে আট উইকেট নিয়েছেন এই তরুণ।

কক্সবাজার স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে দক্ষিণাঞ্চলের বিরুদ্ধে মার্শালের সেঞ্চুরির পরও প্রথম ইনিংসে ২৩৫ রানে গুটিয়ে গেছে মধ্যাঞ্চল। শেষ বিকালে ২৯ রানে ২ উইকেট হারিয়েছে দক্ষিণাঞ্চল। বিজয় ১৩, শামসুর রহমান ৩ রানে ব্যাট করছেন।

একই ভেন্যুর মূল মাঠে মুশফিকের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান তুলেছে উত্তরাঞ্চল। ব্যাটিংয়ে নেমেই ৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসেছে পূর্বাঞ্চল। আউট হয়েছেন পিনাক ঘোষ ও আশরাফুল। সাকলাইন সজীব শূন্য রানে অপরাজিত আছেন।

একাডেমি মাঠে টস জিতে ব্যাট করা মধ্যাঞ্চল ৫৩ রানে হারায় ৪ উইকেট। দলীয় ৯৭ রানে মেহেদী হাসান মিরাজ আউট হলে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। পরে লোয়ার অর্ডারকে নিয়ে দলের ইনিংস টেনে গেছেন মার্শাল। ক্যারিয়ারের ২০তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে তিনি ১৮৬ বলে ১১৬ রান (১২ চার,  ২ ছয়) করেন। মার্শালকে সঙ্গ দিয়েছেন জাবিদ হোসেন ও মুস্তাফিজ। জাবিদ ২১, মুস্তাফিজ অপরাজিত ৩০ রান করেন। আব্দুল মজিদ ১৪, শুভাগত ১৪, রকিবুল ১১, আরাফাত সানি ১১ রান করেন। দক্ষিণাঞ্চলের মেহেদী হাসান ৩টি, শফিউল, রাজ্জাক, নাসুম ২টি করে উইকেট নেন।

ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেনি দক্ষিণাঞ্চলও। ২১ রানের মধ্যে শাহরিয়ার নাফিস (১০) ও ইরফান শুক্কুর (৩) সাজঘরে ফিরেন। পরে দিনের খেলা শেষ করে ফিরেন বিজয় ও শামসুর।  

কক্সবাজার স্টেডিয়ামের মূল মাঠে একদিকে মুশফিকের ব্যাটিং দৃঢ়তা, অপরদিকে নাঈম হাসানের ঘূর্ণি জাদুর প্রদর্শনী চলছিল। নাঈমের বাধা টপকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি করেন মুশফিক। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১৫৭ বলে ১৪০ রানের (১৬ চার, ১ ছয়) ইনিংস খেলেছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামার আগে ভালোই প্রস্তুতি সারলেন মুশফিক।

উত্তরাঞ্চলের ইনিংসে নিয়মিত বিরতিতে আঘাত করেছেন নাঈম। ১০৭ রানে ৮ উইকেট নিয়েছেন এই তরুণ অফস্পিনার। ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবার পাঁচ বা ততধিক উইকেট পেলেন তিনি। এর আগেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আট উইকেট পাওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তার। সেটিই তার ক্যারিয়ার সেরা (৮/৪৭)।

উত্তরাঞ্চলের রনি তালুকদার ২৮, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ২৩, সানজামুল ২৯ রান করেন। পূর্বাঞ্চলের হাসান মাহমুদ দুটি উইকেট নেন।