ফাল্গুনের আনন্দ-বেদনায় নীল

রাঙ্গামাটিতে পর্যটকবাহী বোট উলটে পাঁচ নারীর মৃত্যু

রাঙ্গামাটি সদরে পর্যটকবাহী একটি ইঞ্জিনচালিত বোট উলটে পাঁচ নারীর মৃত্যু হয়েছে। কাপ্তাইয়ে অপর নৌ দুর্ঘটনায় এক তীর্থ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই তীর্থ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল শুক্রবার পয়লা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবসে এ দুর্ঘটনায় পর্যটন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মুহূর্তেই ফাল্গুনের আনন্দ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের উচ্ছ্বাস মলিন হয়ে যায়। সঙ্গী পর্যটকদের কান্না আর আতঙ্কে ভারি হয়ে ওঠে বাতাস।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে আসা পর্যটকরা ইঞ্জিনচালিত বোটে শুভলং ঝর্ণার উদ্দেশে বের হয়। বোটটি রাঙ্গামাটি ডিসি বাংলোর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাত্ উলটে ডুবে যায়। এতে পাঁচ জন নারীর মৃত্যু হয়। এদের মধ্যে রিনা (১৬), শিলা (২৬), আসমা (৩০) নামে তিন জন নারীর নাম পাওয়া গেলেও অপর দুই জনের নাম জানা যায়নি। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

এদিকে কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় কয়লার ডিপোসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে চট্টগ্রাম থেকে আসা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) ১২৭ তীর্থযাত্রীবাহী ইঞ্জিন বোট ডুবে যায়।  এ ঘটনায় দেবলীনা দে (১০) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ দুই জন হচ্ছে টুম্পা মজুমদার (৩০) ও বিনয় (৫)। আহত কয়েকজনকে কাপ্তাই উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক (আরএমও) ডা. শওকত আকবর জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটি কাপ্তাই হ্রদে নৌকা ডুবির ঘটনায় হাসপাতালে পাঁচ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার এক শিশুকে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ জানান, রাঙ্গামাটি কাপ্তাই হ্রদে ইঞ্জিনচালিত বোট ডুবে পাঁচ জন মারা গেছেন। অন্যদিকে কর্ণফুলী নদীতে বোট ডুবে দুই জন নিখোঁজ রয়েছে। আজ সকালে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।