রাজশাহীর পুঠিয়া থানায় আবারও বাদীর এজাহার পরিবর্তনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুধু এজাহার পরিবর্তনই নয়, এবার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলার প্রধান আসামিকে দিয়ে উলটো বাদীর নামে পুরোনো ঘটনায় প্রতারণার পালটা মামলা রেকর্ডের অভিযোগ করেছেন বাদী বদিউজ্জামান। রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে পুঠিয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে এজাহারের তারিখ পরিবর্তন এবং প্রধান আসামিকে দিয়ে বাদীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রেকর্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এদিকে পুঠিয়া থানার ওসি রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত চলমান থাকলেও রহস্যজনক কারণে ওসি নিজ পদে বহাল থেকে তদন্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী বদিউজ্জামান। এছাড়া ওসি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পুনঃতদন্তও চেয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও ওসি রেজাউল এ প্রতিবেদকের কাছে আদালতে পুনঃতদন্তের আবেদনের কথা অস্বীকার করেন। অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি পুঠিয়া থানায় যেতে বলেন। অন্যথায় কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং ফোনের লাইন কেটে দেন।
উল্লেখ্য, বিচার বিভাগীয় তদন্তে স্থানীয় শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহার পরিবর্তন করে জীবন নামের এক নিরাপরাধ কিশোরকে ফাঁসানোর ঘটনায় পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিল উদ্দিন আহম্মেদকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল ইসলামকে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলাকালে ওসি সাকিল উদ্দিন আহম্মেদকে পুঠিয়া থেকে প্রত্যাহার এবং ওএসডি করা হলেও পুলিশি তদন্ত চলাকালে ওসি রেজাউল ইসলাম স্বপদে বহাল থেকে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।