শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদীর ডাকাবর গ্রামে একটি ব্রিজের অভাবে ১৫টি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। মরিয়মনগর-ডাকাবর রাস্তার মাঝপথে মহারশি নদীর ওপর এ ব্রিজ নির্মাণের দাবি গ্রামবাসীদের দীর্ঘ দিনের। যুগের পর যুগ আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতিনিধিরাও কথা রাখেননি।
জানা যায়, উপজেলার নলকুড়া, কোসাইকুড়া, ভারুয়া, ফাকরাবাদ, মানিককুড়া, গজারীকুড়া, হলদিগ্রাম, জারুলতলা, বাঐবাধা, বারোয়ামারী, ডাকাবর, রামেরকুড়া, শালচুড়া, বনকালি ও উপজেলা সদরের বাসিন্দারা এ পথে যাতায়াত করেন। নদীর উভয় পাশে দুটি মহাবিদ্যালয়, চারটি উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি দাখিল মাদরাসা, চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারি দপ্তর রয়েছে।
ডাকাবর গ্রামের ইউপি সদস্য হেদায়েতুল ইসলামসহ গ্রামবাসীরা জানান, এ পথে প্রতিদিন ছোট শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শতশত পথচারী যাতায়াত করে। এলজিইডির পক্ষ থেকে ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দলের দুই নেতার নেতৃত্বের রশি টানাটানির কারণে ব্রিজটি আর নির্মাণ হয়নি।
ভারুয়া গ্রামের আদিবাসী নেতা জ্যামস রেমা, চঞ্চলা সাংমা, মিনু মারাক, নমুনা সাংমা, গ্লোরিয়া সাংমাসহ গ্রামবাসীরা জানায়, এ নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় যানবাহন নিয়ে এপার-ওপারে যাতায়াত করতে তিন থেকে চার কিলোমিটার রাস্তা ঘুরতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নৌকা ও শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাকোতে পারাপার হতে হয়। কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গবাদিপশু নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
আরও পড়ুন: ধর্ষণের পর চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে গলাটিপে হত্যা
উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাইম, নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ফর্সা বলেন, ওই ব্রিজটি নির্মাণের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় জেলা, উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক জানালেন, নকশা প্রস্তুতের কাজ চলছে। বরাদ্দ এলেই ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এসি