‘আমাকে ক্ষমা কোরো মা, আর সইতে পারছি না’

প্রেমিকের আপত্তিকর ছবি মোবাইল ধারণ, পরে ব্লাকমেইল করে দৈহিক মিলন, বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া ও মানসিক নির্যাতন- সবকিছু মিলিয়ে আর চাপ নিতে পারছিল না দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী তাহমিনা আক্তার।  শেষে আত্মঘাতির পথটিই বেছে নিলো কিশোরীটি। শুক্রবার রাতে মায়ের সঙ্গে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যায় তাহমিন।  পরে তার আর ওঠা হয়নি। শুধু রেখে গেলো কিছু চিরকুট। ঘটনাটি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়নের মধ্য রৌহা গ্রামে।  পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

তাহমিনা সাটুরিয়ার মধ্যরৌহা গ্রামের মৃত খোরশেদ মিয়ার মেয়ে। সে গোপালটুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ মিয়ার ছেলে মো. রেদুয়ানের সঙ্গে তাহমিনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।  রেদুয়ান সরকারি দরগ্রাম ভিকু মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।  সে তাহমিনার কিছু গোপন ভিডিও ধারণ করে।  পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দৈহিক মিলনে বাধ্য করে।  লজ্জায় তাহমিনা ঘটনাটি পরিবারে জানায়নি।  শুক্রবার রাতে মায়ের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরের বারান্দার কোঠায় ঘুমাতে যায়।  শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে তার মা ডাকলে সে সাড়া না দেওয়ায় ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। দেখা যায়, তাহমিনা ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। 

আরও পড়ুন: ধর্ষণের পর চতুর্থ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে গলাটিপে হত্যা

তবে মৃত্যুর আগে তাহমিনা লিখে গেছে, ‘আমাকে ক্ষমা কর মা।  আমি আর সইতে পারছি না। আমি জানি অনেকের সাথে আমি খারাপ ব্যবহার করেছি।  পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।’ বন্ধু বান্ধবীদের বলেছে, ‘তোরা ভালো থাকিস।  আমি ওপারে চলে গেলাম।’

তাহমিনার মামা আব্দুস সোবহান মিয়া জানান, তাহমিনার মোবাইল থেকে পুলিশ একটি ভিডিও উদ্ধার করেছে।

তাহমিনার বান্ধবীরা পুলিশকে জানিয়েছে, রেদুয়ানকে বিয়ের চাপ দিলে সে আপত্তিকর ছবি মোবাইলে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতো।

সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মতিয়ার রহমান মিঞা বলেন, এব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে।  লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।  মেয়েটির মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইত্তেফাক/এসি