ছোটোবেলায় পুকুরে লুঙ্গির ভেতর বাতাস ঢুকিয়ে সেটি ফুলিয়ে পানিতে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ছয় দিন সাগরে ভেসেছিলাম। ভাসতে ভাসতে একপর্যায়ে ভারতের জলসীমায় প্রবেশ করি। সেখানকার জেলেরা আমাকে উদ্ধার করে পশ্চিমবঙ্গের রায়দিঘি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে রায়দিঘি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সা করানো হয়। সেখান থেকে ভোলাহাট থানার নূর আলী মেমোরিয়াল সোসাইটি নামে একটি শিশু যত্ন ও শিশু সুরক্ষা কেন্দে রাখা হয় আমাকে। দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম।
এ কথাগুলো সাংবাদিকদের বলছিল শখের বশে বাবার ট্রলারে করে সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলার থেকে সাগরে ছিটকে পড়া বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ১৪ বছরের কিশোর মো. ইমরান খান। দীর্ঘ ছয় মাস পর ইমরান ভারত থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করেছে। আইনি বেড়াজাল ও কূটনৈতিক যোগাযোগের পর শুক্রবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ বেনাপোল সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে হস্তান্তর করে তাকে। সেখান থেকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল শনিবার বেলা ১২টার দিকে ইমরানের বাবা ও স্বজনরা তাকে বেনাপোল থানার মাধ্যমে গ্রহণ করেন। ইমরান পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
এর আগে ইমরানের বাবা ইসমাইল খানের মালিকানাধীন এফবি ইমরান নামের ট্রলারটিতে ইমরানসহ ১২ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে গত বছরের ২৫ আগস্ট সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যায়। পর দিন ২৬ আগস্ট ভোররাতে সাগর থেকে মাছ শিকার করে ঘাটে ফিরে আসার পথে বলেশ্বর নদের মোহনায় হঠাত্ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই ইমরান ট্রলার থেকে সাগরে পড়ে যায়। ইমরানের বাবা ইসমাইল জানান, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে ছেলেকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে গত বছরের ৩১ আগস্ট রাতে পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম। সে যে এভাবে বেঁচে ফিরেছে তা কল্পনাতেও আনতে পারছি না। ছেলেকে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন মা আয়েশা বেগম।